পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের অভিযোগকে সামনে রেখে এবার কেন্দ্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরাও। বুধবার জোকায় ভারত সেবাশ্রম হাসপাতালের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের অভিযোগ মোকাবিলায় কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন সমন্বয় রেখে এই অভিযান চালাবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৪৫ দিনে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় ১২টি বিশেষ হোল্ডিং স্টেশন তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ সেখানে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে না পাঠিয়ে প্রথমে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে পরবর্তীতে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনা শুরু হবে। এই জনগণনায় প্রথমবারের মতো সেলফ ডিক্লারেশন বা স্ব-ঘোষণার সুযোগ থাকবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই তথ্যের ভিত্তিতেই অনুপ্রবেশের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এদিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিও শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছে।
সূত্রের খবর, বিভিন্ন রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে এই প্রতিনিধি দল। ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রভাব মূল্যায়ন করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।
