রাজ্যের মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা আরও সুসংগঠিত করতে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই চালু করা হবে বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমেই সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি বাসে ইতিমধ্যেই ‘শূন্য মূল্যের টিকিট’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে অনেক মহিলা নিজের উপার্জনের টাকায় ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে চান। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যাঁরা পর্যাপ্ত বেতন পান এবং বিনামূল্যের টিকিট নিতে চান না, তাঁদের আমি নতমস্তকে প্রণাম জানাই।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, যাঁদের এই পরিষেবার প্রয়োজন, তাঁদের সুবিধার জন্যই চালু করা হচ্ছে ‘পিঙ্ক কার্ড’। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। যদিও পূর্ণাঙ্গ বাজেটে মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জন্য সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসে এই পরিষেবা চালু রয়েছে। ডব্লিউবিটিসি (WBTC), এসবিএসটিসি (SBSTC) এবং এনবিএসটিসি (NBSTC)-র সাধারণ বাসের পাশাপাশি এসি বাস, ভলভো, দ্রুতগামী এবং দূরপাল্লার সরকারি বাসেও মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে ‘পিঙ্ক কার্ড’ কীভাবে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্ডের জন্য আলাদা আবেদন করতে হতে পারে। বিডিও অফিস, এসডিও অফিস এবং পুরসভাগুলির মাধ্যমে আবেদন ও কার্ড বিতরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। ভোটার তালিকায় নাম থাকা, পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকার এখনও পর্যন্ত আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় নথি বা কার্ড বিতরণের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য সরকারি বাসে যাতায়াতকারী লক্ষ লক্ষ মহিলার কাছে এই প্রকল্প বড় স্বস্তি এনে দেবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
