আষাঢ় মাস শেষ হতে চলল, তাও দিঘার সমুদ্রে দেখা মিলছে না বাঙালির প্রিয় ইলিশ মাছের। মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও সাগরে মাছের দেখা নেই। আর এই কারণে উপকূলের মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা ভীষণ চিন্তায় পড়েছেন। সাগরে গিয়েও ইলিশ না পাওয়ায় খালি হাতে অথবা খুব সামান্য মাছ নিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে ট্রলারগুলোকে। এখন ইলিশের আশা ছেড়ে জেলেরা পমফ্রেট এবং অন্য ছোট মাছ ধরেই দিন চালাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দিঘার সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। নিয়ম মেনে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর, গত ১৪ জুন জেলেরা অনেক আশা নিয়ে সাগরে গিয়েছিলেন। কিন্তু জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ কেটে গেলেও জালে ইলিশ উঠছে না। দু-একটা ট্রলারে যা-ও একটু আধটু মাছ পাওয়া যাচ্ছে, বাজারে তার দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষের কেনার সাধ্য নেই।
জেলেরা বলছেন, ইলিশ মাছের জন্য যেমন আবহাওয়া দরকার, তেমনটা এবার মিলছে না। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর পুবালি বাতাস থাকলে ইলিশ মাছ বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু এবার মেঘ জমলেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে না।
মৎস্যজীবী সংগঠনের কর্তারা জানান, ২০২৩ সালের পর থেকেই দিঘার সমুদ্রে ইলিশের সংখ্যা দিন দিন কমছে। গত বছরও মাছ কম ছিল, আর এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ। দিঘা ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এখন ঠিক সময়ে বর্ষা আসছে না। তার ওপর হুগলি নদীর মোহনায় দূষণ বেড়ে যাওয়ায় মাছেরা ডিম পাড়ার পরিবেশ পাচ্ছে না।
অন্য এক মৎস্যজীবী নেতা দেবাশিস শ্যামল জানান, সমুদ্রে নিয়ম না মেনে প্রচুর ট্রলার একসঙ্গে মাছ ধরার কারণেও মাছের এই অভাব তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, বড় ধরনের বৃষ্টি আর সঠিক বাতাস না এলে ইলিশের এই সংকট সহজে কাটবে না বলেই মনে করছেন তাঁরা।
