অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৈঠকে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে দাবি করেন, মহিলাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আর্থিক সহায়তা দীর্ঘদিন ধরে এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছিল। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তির নামও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন ও পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এলাকা থেকে রাকিবুল শেখ (Rakibul Sheikh) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এদিন নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক শিবির নিয়ে আলোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তিনি পূর্বতন সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় গুরুতর গরমিলের অভিযোগ তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বহরমপুরের বাসিন্দা রাকিবুল শেখ একজন পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছিলেন, যা প্রশাসনিক ত্রুটি নাকি পরিকল্পিত জালিয়াতি তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, এই ধরনের অনিয়ম সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের পরপরই বহরমপুর থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই অভিযুক্তকে আটক করে। পুলিশ সূত্রে খবর, কীভাবে একজন পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেন, তার পিছনে কোনও বড় চক্র বা প্রশাসনিক যোগসাজশ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন নথিপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর আবহে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের এই অনিয়ম প্রকাশ্যে এনে শুভেন্দু অধিকারী একদিকে পূর্বতন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে দ্রুত পুলিশের পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন।
