Nadia Raids : সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রীর পৈতৃক বাড়িতে মধ্যরাতে তল্লাশি! উদ্ধার কোটি কোটি টাকার সোনা

রাজ্য

তোলাবাজি মামলার তদন্তে নেমে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে জেরার পর এবার বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। সোমবার মধ্যরাতে নদীয়ার করিমপুরের কিশোরপুর এলাকায় সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল নেত্রী তথা নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্যা টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিধাননগর উত্তর এবং করিমপুর থানার একটি যৌথ পুলিশ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার হয়েছে কেজি কেজি সোনার গয়না এবং একটি বিলাসবহুল গাড়ি।

পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে সোমবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ নদীয়ার করিমপুরের কিশোরপুর এলাকায় টিনার বাবার বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ দল। ৭ জন কর্মকর্তা এবং ২১ জন পুলিশকর্মী মিলে পুরো বাড়িটি কর্ডন করে ফেলেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ একটি লাল রঙের ‘স্করপিও’ গাড়িতে করে ধৃত সব্যসাচী দত্তকে সেখানে নিয়ে আসা হয়। ভোররাত পর্যন্ত চলা এই তল্লাশিতে বাড়িটি থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের সোনার অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়, যার বর্তমান বাজারদর আনুমানিক ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের ধারণা, তোলাবাজির অর্থ ব্যবহার করেই এই সোনা কেনা হয়েছিল।

শুধু সোনাই নয়, বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সব্যসাচী দত্ত যে সাদা রঙের বিলাসবহুল ‘স্করপিও’ গাড়িটি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতেন, সেটিও পুলিশ ক্রোক করেছে। এর আগে রাজারহাটের একটি বহুতলের ৭ম ও ১৩শ তলায় সব্যসাচীর ফ্ল্যাটে টানা ৭ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে সোনা ক্রয়ের প্রচুর রসিদ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর আরও ৫টি বড় সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।

গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও তিনি শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে তদন্তে তাঁর আর্থিক লেনদেনে প্রচুর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ফলে সব্যসাচী ও তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের ৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই সিল করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফিক্সড ডিপোজিট ও নগদ মিলিয়ে ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে থাকা মোট ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে, যার উৎসের সন্ধানে তদন্ত চলছে।

এই মামলায় টিনাকে আগে তলব করা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। টিনার পিতা কাঞ্চন ভৌমিক, যিনি নাজিরপুর বাজারে বস্ত্র ব্যবসার সাথে যুক্ত, তিনি জানান যে উদ্ধার হওয়া গয়নাগুলো তাদের পারিবারিক সম্পত্তি। এর মধ্যে তাঁর মেয়ের কিছু অলঙ্কার থাকতে পারে, যা তাঁর স্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। এই বিষয়ে টিনার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্য দিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিজেপি নেতা সৌমেন সরকার দাবি করেন, নদীয়ার নাজিরপুর এলাকায় টিনার বিশাল সম্পত্তি এবং কলকাতায় ৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। সমস্ত সম্পত্তি যেন দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা হয়। এদিকে মামলার গভীরতা বিবেচনা করে সব্যসাচী দত্তকে পুনরায় আদালতে হাজির করে আরও ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *