অনেক পরিবারের বাড়িতেই এমন LPG গ্যাস কানেকশন রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয় না। চাকরির সূত্রে অন্য শহরে চলে যাওয়া, নতুন কানেকশন নেওয়া বা অন্য কোনও কারণে পুরনো সংযোগ অযত্নেই পড়ে থাকে। কিন্তু এই অব্যবহৃত কানেকশনই ফিরিয়ে দিতে পারে কয়েক হাজার টাকা।
নতুন LPG কানেকশন নেওয়ার সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট নেওয়া হয়। এই অর্থ মূলত সিলিন্ডার এবং রেগুলেটরের নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা থাকে। পরবর্তীতে গ্রাহক যদি কানেকশন বাতিল করেন এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ফেরত দেন, তাহলে সেই জমা অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সাধারণত ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির LPG কানেকশনের ক্ষেত্রে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি রেগুলেটরের জন্য জমা রাখা অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ২৫০ টাকাও ফেরত দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ফেরতের অঙ্ক তুলনামূলক কম হলেও কয়েকশো টাকা পাওয়া সম্ভব।
কানেকশন সারেন্ডার করতে হলে সাবস্ক্রিপশন ভাউচার (SV), ডোমেস্টিক গ্যাস কনজিউমার কার্ড (DGCC), গ্যাস সিলিন্ডার, রেগুলেটর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিতে হয়। সাধারণত ক্যান্সেল চেক বা পাসবুকের কপি দিলেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়।
প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রথমে সংশ্লিষ্ট গ্যাস এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর সিলিন্ডার ও রেগুলেটর জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করাতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে এজেন্সি একটি টার্মিনেশন ভাউচার ইস্যু করবে। তারপর কয়েক দিনের মধ্যেই সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
তাই আপনার বাড়িতে যদি কোনও পুরনো LPG কানেকশন ব্যবহার না হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে না রেখে নিয়ম মেনে সারেন্ডার করে জমা রাখা টাকাটি ফেরত নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। এতে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় কানেকশন বন্ধ হবে, অন্যদিকে ফেরত মিলতে পারে কয়েক হাজার টাকাও।
