স্বাস্থ্যভবনে সারপ্রাইজ ভিজিট মুখ্যমন্ত্রীর, সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি থেকে নতুন ট্রমা কেয়ার সেন্টারের ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সর্বশেষ খবর

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও রোগীবান্ধব করে তুলতে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনে আকস্মিক পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন যাওয়ার পথে সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার মান, পরিকাঠামো এবং নজরদারি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে ‘দালালমুক্ত’ করতে রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি বড় হাসপাতালকে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। জরুরি বিভাগ, আউটডোর, ওয়ার্ড থেকে হাসপাতালের রান্নাঘর—সব জায়গাতেই থাকবে লাইভ নজরদারি। স্বাস্থ্যভবনে আধুনিক কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি হাসপাতালের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কোনও ব্যক্তি যদি অস্বাভাবিকভাবে বারবার হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে লাইভ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাঁকে শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসা পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে নার্স, নিরাপত্তারক্ষী এবং ট্রলি চালকদের জন্য আলাদা রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বড় দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালে অত্যাধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে একসঙ্গে অন্তত ২৫০ জন রোগীকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরিকাঠামো থাকবে।
রোগীর আত্মীয়দের দুর্ভোগ কমাতেও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাসপাতালের নিজস্ব জমিতে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে রাত কাটানোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই ১০০টি বেড বৃদ্ধি করা হয়েছে। শারদোৎসবের আগেই আরও ২৫০টি বেড বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আইসিইউ বেডের সংখ্যা ১১২ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইউনিটকেও আরও আধুনিক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোগীদের খাবারের বরাদ্দেও বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন পর সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের দৈনিক বরাদ্দ ৫৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে মিড-ডে মিল ও আইসিডিএস প্রকল্পের পুষ্টি বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে চুক্তি অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ফ্রি বেড রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের চাপের মুখে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ইতিমধ্যেই ১০ শতাংশ বিনামূল্যের বেড রাখতে সম্মত হয়েছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ২,০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। প্রকল্পের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভূমিপুজো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হাসপাতালের ১,০০০টি বেড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির তদন্ত নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, পুলিশ তদন্তে যে কোনও নথি বা তথ্য চাইলে স্বাস্থ্য দফতর তা সম্পূর্ণ সহযোগিতার সঙ্গে দ্রুত তুলে দেবে। কোনও তথ্য গোপন করা চলবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *