ফলহারিণী কালীপুজো

আধ্যাত্মিক কলকাতা দেশ পশ্চিমবঙ্গ সর্বশেষ খবর

হিন্দু ধর্মে শক্তির আরাধনার অন্যতম এক পবিত্র উৎসব হলো ফলহারিণী কালীপুজো। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই পুজোর আয়োজন করা হয়। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ সারাজীবন যে কর্ম করে, দেবী কালিকা তার ভালো-মন্দ ফল নির্ধারণ করেন। এই বিশেষ তিথিতে মা কালীর পুজো করলে তিনি ভক্তের জীবনের সমস্ত অশুভ কর্মফল ও দুঃখ-কষ্ট হরণ (দূর) করেন, তাই তাঁর নাম ‘ফলহারিণী’। মনে করা হয়, এই পুজোর মাধ্যমে মানুষের বিদ্যা, কর্ম, অর্থভাগ্য এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্ত বাধা কেটে যায় এবং জীবনে সুখ-শান্তি নেমে আসে।

এই পুজোর সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। ১২৮০ বঙ্গাব্দের এই জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যা তিথিতেই দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব জগৎ কল্যাণের জন্য তাঁর স্ত্রী সারদা দেবীকে জগন্মাতার আসনে বসিয়ে দেবী ‘ষোড়শী’ রূপে পুজো করেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর সাধনার সমস্ত ফল মায়ের চরণে উৎসর্গ করেন। এই অসাধারণ ঘটনার স্মরণে আজকেও রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে এই দিনটি ‘ষোড়শী পুজো’ হিসেবে অত্যন্ত ভক্তিভরে পালন করা হয়।

ফলহারিণী কালীপুজোর আরেকটি চমৎকার দিক হলো দেবীর চরণে মরশুমী ফল উৎসর্গ করার রীতি। জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুর মতো নানা সুস্বাদু ফলের সময়। ভক্তরা প্রকৃতির এই নতুন ও সেরা ফলগুলো মায়ের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন। শাস্ত্রীয় মতে, এই ফল নিবেদনের আসল অর্থ হলো— মানুষ তার জীবনের সমস্ত কর্ম এবং তার ভালো-মন্দ ফলাফল দেবীর চরণে সঁপে দিয়ে মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি প্রার্থনা করে।