বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং কম শরীরচর্চার কারণে লিভারের সমস্যা অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ এখন কমবয়সীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন এক কাপ গ্রিন টি আপনার লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি কোনও জাদুকরী ওষুধ নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ।
গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটচিন (Catechin) নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। এর ফলে লিভারের কোষ ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা সুরক্ষা পায় এবং লিভার তার স্বাভাবিক কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করলে লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য মিলতে পারে।
বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা খুবই সাধারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি এটি লিভারের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে, ফলে লিভার দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার সুযোগ পায়। শরীরে চর্বির বিপাক প্রক্রিয়াও কিছুটা উন্নত হয়, যার কারণে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমতে পারে।
লিভারের স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত রক্তে ALT এবং AST নামের দুটি এনজাইমের মাত্রা পরীক্ষা করেন। লিভারে প্রদাহ বা ক্ষতি হলে এই এনজাইমগুলোর মাত্রা বেড়ে যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করলে এই মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি রয়েছে।
গ্রিন টি-র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো এটি লিভারের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু গ্রিন টি খেলেই লিভার সুস্থ থাকবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। এর সঙ্গে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সমানভাবে জরুরি।
তবে উপকারের পাশাপাশি কিছু সতর্কতাও রয়েছে। অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করলে এতে থাকা ক্যাফেইনের কারণে ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন টি পান করলে শরীরে আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই খাবারের অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পরে গ্রিন টি পান করাই ভালো।
অনেকে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় বাজারে পাওয়া গ্রিন টি ক্যাপসুল বা সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করেন। কিন্তু উচ্চমাত্রার গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট কিছু ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট কখনও খাওয়া উচিত নয়।
লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে চাইলে গ্রিন টি-র পাশাপাশি চিনি ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কম খেতে হবে, প্রতিদিন নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে এবং মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিতে হবে। মনে রাখবেন, গ্রিন টি লিভারের জন্য উপকারী হলেও এটি কোনও ওষুধ নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করলেই এর প্রকৃত উপকার পাওয়া সম্ভব।
