রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করল অর্থ দপ্তর। সোমবার বিধানসভায় নতুন অর্থবর্ষের এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হলো—রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সরকারি বিভাগে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এই মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারী ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মোট আসনের ৩৩ শতাংশ (অর্থাৎ প্রায় ৩৩ হাজার পদ) মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাক্তন ‘অগ্নিবীর’দের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিশেষ সুবিধাও রাখা হচ্ছে।
কোন বিভাগে কত চাকরি? এক নজরে
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, মূলত দুটি বড় বিভাগে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ করা হবে:
শিক্ষা দপ্তর: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে শিক্ষা দপ্তরে মোট ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ বিভাগ: রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে পুলিশ বিভাগে ২০ হাজার শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি ও কর্মীদের বেতন সংশোধন –
শুধু নতুন কর্মসংস্থানই নয়, বর্তমান রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
পাশাপাশি, বিভিন্ন স্তরের চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী এবং গ্রাসরুট পর্যায়ের।
কর্মীদের বেতন একলাফে অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে:
অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মী: এদের মাসিক বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫,০০০ টাকা।
পার্শ্বশিক্ষক: পার্শ্বশিক্ষকদেরও এক ধাক্কায় ৫,০০০ টাকা মাইনে বেড়েছে।
মিড-ডে মিল কর্মী: মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের মাসিক বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ১,০০০ টাকা করে।
অন্যান্য নিরাপত্তা ও ভলান্টিয়ার কর্মী: সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ এবং এনভিএফ (NVF) কর্মীদের বেতন একলাফে ২,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বাজেট প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে রাজ্য প্রশাসন একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যপূরণ করতে চাইছে। একদিকে যেমন ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির মাধ্যমে বর্তমান রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, ঠিক তেমনই ১ লক্ষ মেগা নিয়োগের বার্তা দিয়ে রাজ্যের তরুণ ও বেকার যুব সমাজের ক্ষোভ প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ
