Durga Puja 2026 : আকাশছোঁয়া দাম, মিলছে না মাটি ! চরম দুশ্চিন্তায় কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা

কলকাতা রাজ্য

দুর্গাপুজো আসতে এখনও বেশ কিছুদিন বাকি থাকলেও, প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাস থেকেই শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এই বছর ছবিটা একেবারেই আলাদা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমোরটুলিতে মৃৎশিল্পীদের ঘরে ঘরে এখন চরম দুশ্চিন্তা। পর্যাপ্ত ও ভালো মানের এঁটেল মাটি না পাওয়ার কারণে থমকে গেছে প্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রতিমা তৈরির আসল উপাদান হলো গঙ্গাতীরের চটচটে এঁটেল মাটি, যা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো শক্ত করে গড়ে তোলা হয়। সাধারণত বালি, ডায়মন্ড হারবার, রায়চক বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাতীরবর্তী অঞ্চল থেকে এই মাটি কুমোরটুলিতে আসে। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বেআইনিভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে কুমোরটুলিতে মাটির জোগান বা সরবরাহ প্রায় বন্ধের মুখে।

চড়া দাম ও বেআইনি কারবার নদীর ভাঙন ও বন্যা রুখতে নদী-বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে গঙ্গাতীরে মাটি কাটার ওপর কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এতদিন কিছু দুষ্কৃতী নিয়মের তোয়াক্কা না করে গঙ্গাতীর থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে চড়া দামে মৃৎশিল্পীদের কাছে বিক্রি করত। বর্তমানে নতুন সরকার আসার পর এই বেআইনি মাটি পাচার রুখতে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। এর ফলে এঁটেল মাটির কালোবাজারি বন্ধ হলেও, শিল্পীরা আইনি উপায়েও মাটি পাচ্ছেন না। বর্তমানে সামান্য যেটুকু মাটি পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম আকাশছোঁয়া— বস্তা প্রতি প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিপন্ন প্রায় দু’শো পরিবার কুমোরটুলির প্রায় দুশোর কাছাকাছি কুমোর পরিবার এবং তাদের দোকান এখন সম্পূর্ণ খাঁ খাঁ করছে। যেখানে এই সময়ে প্রতিমা গড়ার ব্যস্ততা চোখে পড়ার কথা, সেখানে মাটি না থাকায় শিল্পীরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। মৃৎশিল্পীদের একাংশের মতে, প্রতিমা তৈরি করা কোনো সহজ কাজ নয়, আর অ্যাঁটেল মাটি ছাড়া তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মাটির এই আকালের কারণে বাঙালির আবেগের দুর্গাপুজো এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি আজ বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছে। এখন দেখার, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচাতে এবং পুজো শুরুর আগে শিল্পীদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রশাসন কোনো বিকল্প ও সহজ ব্যবস্থার পথ দেখায় কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *