বছর দুয়েক আগের আরজিকরের সেই নারকীয় ঘটনা আজও রাজ্যবাসীর মনে আছে। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ওপর ঘটা সেই মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে অবশেষে রাজ্য বিধানসভায় কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে নিজের জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আরজি করের প্রকৃত বিচার হবেই। অপরাধের সমস্ত হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়া হবে।”
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত নতুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচার রুখতে এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার এক নতুন ও অত্যন্ত কঠোর আইন আনার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। ইতিপূর্বেই রাজ্য ক্যাবিনেটের অনুমোদনক্রমে দুটি বিশেষ কমিশনও গঠন করা হয়েছে।
এদিন বিধানসভার গ্যালারিতে বসে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে নিজের মেয়ের নাম এবং দ্রুত বিচারের এই দৃঢ় আশ্বাস শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। বিধানসভা কক্ষের ভেতরেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে ভেজা চোখে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মেয়েকে তো হারিয়েছি। আমি এবার শুধু বিচার চাই। বিগত সরকারের আমলে কোনো সঠিক তদন্তই করা হয়নি, সবকিছু আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী যখন আজ বিচারের কথা বলছিলেন, আমি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারিনি।” মেয়েকে আর ফিরে না পেলেও, দোষীরা শাস্তি পাবে—এই আশায় বুক বাঁধছেন তিনি।
পালা বদলের পরপরই সরকারের নির্দেশে নতুন করে খোলা হয়েছে ‘আরজি কর ফাইলস’। এই মামলার তদন্তে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের নজিরবিহীন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসখানেক আগেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলসহ ৩ জন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়েছেন তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্ত। ইতিমধ্যেই এই দুই পুলিশ আধিকারিকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৎকালীন সিপি বিনীত গোয়েলকেও তলব করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা, যদিও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে তথ্য লোপাটের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল, সেইসব ওপরতলার পুলিশ আধিকারিকদের বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অভয়ার বিচার ছিনিয়ে আনতেই বাংলার মানুষ এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। শুধু অভয়া নয়, তামান্নার মা-ও বিচার পাবেন। বিচার পাবে রামপুরহাটের আদিবাসী কন্যার পরিবারও। কামদুনি, হাঁসখালি কিংবা কসবা ল’ কলেজের মতো সমস্ত নারকীয় ঘটনায় সরকার কোনো আপস করবে না। বাকি যতটুকু আবর্জনা রয়েছে, তাও পুরোপুরি পরিষ্কার করা হবে।
