টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের একাধিপত্য ও ‘ব্যান রাজনীতি’র অবসানের ইঙ্গিত? ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার (FCTWEI) দোর্দণ্ডপ্রতাপ সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিতে কার্যত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে স্টুডিও পাড়া। গত ৫ জুন নিউ আলিপুর থেকে শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পর থেকেই, টলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা ও কলাকুশলীরা একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
কাকতালীয়ভাবে, যেদিন স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হলেন, সেদিনই একেনবাবু সিরিজের নতুন ছবি ‘কেরালায় কুরুক্ষেত্র’র ঘোষণা হয়েছে। তবে বর্তমান টলিউডের পরিস্থিতিকেও কোনো ‘কুরুক্ষেত্র’র চেয়ে কম দেখছেন না কেউ কেউ। স্বরূপের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী স্পষ্ট জানান, “এতদিন অনেক ঘটনা শুনতাম, এবার বোঝা গেল সেটা সত্যি। অনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত, সে যেই হোক, তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিক টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ ও স্বজনপোষণের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কোনো রাজনৈতিক রঙে না রাঙলে কাজ পেতে অসুবিধা হবে—এই ধারণাটা ভুল। শিল্পীদের মাপকাঠি হওয়া উচিত তাঁর শৈল্পিক ভাবনা।” এমনকি পরিচালক-কলাকুশলীদের একাংশও ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, বিগত এক দশকে স্বরূপ বিশ্বাসের অঙ্গুলিহেলনে বহু মানুষের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে। এই গ্রেফতারির পর ঋত্বিক চক্রবর্তী থেকে শুরু করে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো তারকারাও টলিপাড়ার এই সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
স্টুডিও পাড়ার সাধারণ টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে প্রথম সারির তারকা—সবারই এখন একটাই আশা, এবার হয়তো টলিউড তার চেনা ছন্দে ফিরবে এবং ভয়ের রাজনীতি চিরতরে মুছে যাবে।
