গ্রামের মানুষ একসময় বলতেন, “আজ টিভিতে ‘পোয়েনজিৎ’-এর সিনেমা এসেছে।” সেই সুপারস্টারের সঙ্গেই একদিন কাজ করবেন, এমন স্বপ্নও দেখেননি অভিনেতা বিমল গিরি। সৌরভ পালোধী পরিচালিত সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অনেকদিন পর’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আর ছবিটির প্রযোজক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কুমারদা গ্রামের ছেলে বিমলের অভিনয়ের শুরু স্কুলের নাটক ও বাবার যাত্রাদলের হাত ধরে। উচ্চমাধ্যমিকের পর কলকাতায় এসে কৌশিক সেনের ‘স্বপ্নসন্ধানী’ নাট্যদলে যোগ দেন। সেখান থেকেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
‘অনেকদিন পর’ ছবির সুযোগও আসে সম্পূর্ণ অডিশনের মাধ্যমে। প্রথমে পরিচালকের বার্তা পেলেও পরে আর কোনও খবর না পেয়ে ভেবেছিলেন কাজটি হবে না। পরে বন্ধুর পাঠানো একটি পোস্টারে নিজের নাম দেখে চমকে যান। এরপরই ছবির দলে যোগ দেন।
সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ। চিত্রনাট্য পাঠের দিন বুম্বাদার অফিসে গিয়ে উত্তেজনায় শুধু একটি কথাই বলতে পেরেছিলেন— “থ্যাঙ্ক ইউ।” বাকিটা আর মুখে আসেনি।
সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা নয়, ভাল কাজ আর ধৈর্যই অভিনেতার সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন বিমল। পরিবারও কখনও তাঁকে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চাপ দেয়নি। ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর ভাবনা সহজ— অভিনয়ে টিকে থাকতে পারলে ভাল, না পারলে গ্রামে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করবেন। সেই সরল বিশ্বাসই আজও তাঁকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
