ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) পদত্যাগের পর থেকেই কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)-র নতুন মেয়র কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই কলকাতা পুরসভাকে কড়া বার্তা দিল পুর দফতর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন মেয়র পদপ্রার্থীর নাম জানাতে না পারলে পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, মেয়র পদ শূন্য থাকার ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিভিন্ন পরিষেবা পরিচালনায় (Civic Administration) জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছে প্রশাসন। পুর দফতরের তরফে পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মাত্র ৩ দিনের মধ্যে পুরসভাকে তাদের অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে হবে।
রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের মতে, কোনও পুরসভা যদি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব (Constitutional Responsibility) পালনে ব্যর্থ হয় অথবা প্রশাসনিক অচলাবস্থা (Administrative Deadlock) তৈরি হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এমনকি সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও সরকারের হাতে রয়েছে।
নবান্নের (Nabanna) ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নাগরিক পরিষেবা (Public Services) ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে পুর প্রশাসনকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোর দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে নিয়ম অনুযায়ী, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই কারণ দর্শানোর নোটিস (Show Cause Notice) পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখন নজর আগামী কয়েক দিনের দিকে। কলকাতা পুরসভা কী জবাব দেয় এবং নতুন মেয়রের নাম কবে ঘোষণা করা হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ।
