দলবদলের রাজনীতিতে এবার উলটপুরাণ রাজ্যে। বিধানসভা নির্বাচনের পালাবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরবঙ্গে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার মুখে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভা। ঝালদা পুরসভা কিংবা সাগরদিঘি বিধানসভার সেই পুরোনো ‘মডেল’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবার যেন মধুর প্রতিশোধ নিল কংগ্রেস।
শুক্রবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দিলেন মেখলিগঞ্জ পুরসভার তৃণমূল পুরপ্রধান প্রভাত পাটনি। এখানেই শেষ নয়, পুরপ্রধানের দাবি অনুযায়ী মেখলিগঞ্জের আরও ৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর খুব শীঘ্রই তাঁর দেখানো পথেই হাঁটতে চলেছেন। ৯টি আসন বিশিষ্ট এই পুরবোর্ডের ৬ জন সদস্যই যদি শেষ পর্যন্ত হাত শিবিরে যোগ দেন, তবে মেখলিগঞ্জ পুরসভা এককভাবে কংগ্রেসের দখলে চলে যাবে। দলত্যাগের পর প্রভাত বাবু স্পষ্ট জানান, “কংগ্রেস একটি জাতীয় দল, আর তৃণমূল এখন আঞ্চলিক দলে পরিণত হয়েছে।”
এদিকে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের ভাঙন কেবল মেখলিগঞ্জেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জলপাইগুড়িতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে শাসক শিবির। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির উপস্থিতিতেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মলয় রায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, একসময় সাগরদিঘির একমাত্র কংগ্রেস বিধায়ক বা ঝালদা পুরসভাকে যেভাবে তৃণমূল নিজেদের ছাতার তলায় এনেছিল, মেখলিগঞ্জের এই ঘটনা তারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া। মেখলিগঞ্জ পুরবোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের পুরবোর্ডে পরিণত করাই এখন দলত্যাগী কাউন্সিলরদের মূল লক্ষ্য।
