বিধানসভার সই-জালকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন। রবিবার একই দিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ভবানী ভবনে তলব করে সিআইডি। তদন্তকারীরা প্রথমে দু’জনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হয় বলে সূত্রের খবর।
রবিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবনে পৌঁছন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি সেখান থেকে বের হন। অন্যদিকে, বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ হাজিরা দেন কুণাল ঘোষ। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে তাঁকে জেরা।
ভবানী ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে দু’জনের বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ৩ থেকে ৪টি প্রশ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের দেওয়া উত্তর একেবারেই আলাদা ছিল বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের। এমনকি (রেজোলিউশন বুক) (Resolution Book) সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তরও দিতে পারেননি অভিষেক, বলে জানা গিয়েছে।
কুণাল ঘোষ ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে জানান, তদন্তকারীদের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন যে, তাঁকে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দু’জনের বয়ান ইতিমধ্যেই নথিবদ্ধ এবং রেকর্ড করা হয়েছে। সেই বয়ান খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ফের দু’জনকেই তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের ইঙ্গিত।
এদিকে আইনি চাপও বাড়ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। ১৫ জুন (সোমবার) (শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা) (Teacher Recruitment Scam)-এ তাঁকে তলব করেছে (ইডি) (Enforcement Directorate)। আবার ১৬ জুন (মঙ্গলবার) একটি বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলেছে (সিআইডি) (CID Investigation)।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই দুই মামলার ক্ষেত্রেই আপাতত আদালতের কোনও সুরক্ষাকবচ নেই। ফলে আগামী কয়েকদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
