নতুন মন্ত্রিসভার (Cabinet) দফতর বণ্টনের দিনেই হঠাৎ দিল্লির বিমানে চেপে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর এই আকস্মিক দিল্লি সফর (Delhi Visit) ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি (State Politics)। নবান্নের অন্দরমহল থেকে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্র একটাই প্রশ্ন, এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজধানীতে কীসের তলব?
গত ১ জুন শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার ৩৫ জন সদস্য। বুধবার নবান্নে (Nabanna) প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, শুক্রবারই হবে দফতর বণ্টন (Portfolio Allocation)। কিন্তু শুক্রবার সকালেই বদলে যায় চিত্র। নির্ধারিত সময়ের আগেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাতেই তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।
তবে এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা (Political Speculation)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র রুটিন প্রশাসনিক বৈঠক (Administrative Meeting) নয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি (Political Situation), বিরোধী শিবিরের অস্থিরতা এবং নতুন সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক (Centre-State Relations) আরও মজবুত করতেই এই সফর। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই দিল্লির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। স্বাস্থ্য, রেল, পরিকাঠামো এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ও বেড়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
সব মিলিয়ে দফতর বণ্টনের দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক দিল্লি সফর ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। নবান্ন বা বিজেপি (BJP)-র তরফে এখনও পর্যন্ত সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ফেরার দিকেই। কারণ অনেকেরই ধারণা, এই সফরের পরই বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত মিলতে পারে।
