বাংলায় এবার ‘শিন্ডে মডেল’! মমতা-অভিষেকের নির্দেশ উড়িয়ে ৫৮ বিধায়ক নিয়ে ভাঙনের পথে তৃণমূল?

রাজনীতি রাজ্য সর্বশেষ খবর

মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙনের সেই চেনা চিত্রনাট্য এবার কি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও? বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে আড়াআড়ি ভাঙনের মুখে রাজ্যের শাসক শিবির। দলের শীর্ষ মহলের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জোট বেঁধেছেন তৃণমূলের এক বিরাট অংশের বিধায়কেরা, যা ঘাসফুল শিবিরের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
যেখান থেকে বিদ্রোহের শুরু
বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক করার প্রস্তাব দেন । কিন্তু দলীয় এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি দলের সিংহভাগ বিধায়ক। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে এসে পৌঁছায় একটি চাঞ্চল্যকর চিঠি, যা এক নিমেষে বদলে দিয়েছে ভেতরের সমীকরণ। সবাইকে চমকে দিয়ে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক সই করে শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দের নাম খারিজ করে দিয়েছেন এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই ভেতরের ক্ষোভ ধিকধিক করে জ্বলছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আসরে নামেন মমতা ও অভিষেক। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তড়িঘড়ি দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে। বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত আরও নতুন রূপ নিয়ে ময়দানে নামেন এবং ৫৮ জন বিধায়ককে নিজের পক্ষে টেনে প্রমাণ করে দেন যে, ক্ষমতার রাশ এখন আর পুরনো নেতৃত্বের হাতে নেই।

স্পিকারের দফতরে জমা পড়া নতুন তালিকা অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ বিধায়করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বাদ দিয়ে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-কেই নিজেদের দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একই সাথে, ফিরহাদ হাকিমকে সরিয়ে আখরুজ্জামান-এর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে মুখ্য সচেতক হিসেবে।
একদিকে ময়দানে বা ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মসূচিতে চেনা মুখগুলোর অনুপস্থিতি, অন্যদিকে দলের বিধায়কদের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে একসময়ের অপরাজেয় এই দলের।
আপাতত গোটা রাজ্যের নজর বিধানসভার স্পিকারের কোর্টে। তিনি যদি এই ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের দাবিকে আইনি স্বীকৃতি দেন, তবে বাংলায় খাতায়-কলমে আত্মপ্রকাশ ঘটবে এক ‘নতুন তৃণমূল’-এর। আর তা হলে ধাক্কা খেতে পারে মমতার দীর্ঘদিনের একক আধিপত্যের রাজনীতি।