অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাবে উদ্ভিদের কোষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন আইআইটি মান্ডির বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র না থাকলেও অ্যানেস্থেশিয়ার সময় উদ্ভিদের কোষ অত্যন্ত সুসংগঠিত ও সমন্বিতভাবে আচরণ করে। এই আবিষ্কার চেতনা এবং অ্যানেস্থেশিয়ার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। আইআইটি মান্ডির ডিরেক্টর অধ্যাপক লক্ষ্মীধর বেহেরা এবং অধ্যাপক চয়ন কান্তি নন্দীর নেতৃত্বে এই গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Advanced Biology (২০২৫) এবং Chemical & Biomedical Imaging (২০২৬)-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় টমেটো ও বেগুন গাছের শিকড়ের কোষে অত্যাধুনিক লাইভ-সেল মাইক্রোস্কোপির সাহায্যে অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাবে কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণু একটি নির্দিষ্ট ক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আবার অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব কেটে গেলে সেগুলি উল্টো ক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে।গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, অ্যানেস্থেশিয়ার সময় বিভিন্ন কোষের নিউক্লিয়াসে থাকা ইউক্রোমাটিন একই সঙ্গে এবং একইভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে অ্যানেস্থেশিয়াজনিত অবস্থার একটি সম্ভাব্য সার্বজনীন জৈব-চিহ্ন (বায়োমার্কার) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অধ্যাপক লক্ষ্মীধর বেহেরা বলেন, এই গবেষণার ফলাফল ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরায় চেতনা সম্পর্কে যে ধারণা রয়েছে, তার সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন।বর্তমানে গবেষকরা C. elegans নামে একটি ক্ষুদ্র গোলকৃমির ওপর একই ধরনের গবেষণা চালাচ্ছেন। সেখানে যদি একই ধরনের কোষীয় পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে জীবজগতের বিভিন্ন স্তরে অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব এবং চেতনার কোষীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
