তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী তথা বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে বুধবার পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, সম্পত্তি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তির হিসাব নয়ছয় এবং আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পাশাপাশি নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির প্রকৃত তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছে।
এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দেবরাজ ও অদিতি। আদালত শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে অদিতিকে রক্ষাকবচ দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এরই মধ্যে কেষ্টপুরের এক প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা বাগুইআটি থানায় দেবরাজের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, চাপের মুখে তিনি দেবরাজকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং তাঁর সহযোগীকে আরও ৫ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হন। তবুও পরবর্তীতে আবারও টাকা দাবি করা হয় এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বুধবার সেই মামলাতেই পুরুলিয়া থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন, দেবরাজের গ্রেফতার সময়ের অপেক্ষা ছিল। তাঁর অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনায় সিন্ডিকেট রাজ চালিয়ে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছিল এবং বেআইনি সম্পত্তির তথ্য তিনিই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোট-পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি, জমি দখল ও সিন্ডিকেট পরিচালনার একাধিক অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছিল। সম্প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার নিজেও পুলিশের জালে ধরা পড়লেন প্রাক্তন এই তৃণমূল কাউন্সিলর।
