বর্ষা শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই বৃষ্টির জেরেই অনেক বাড়ির ছাদে জল জমে ছোটখাটো পুকুরের মতো অবস্থা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই ঝাড়ু বা অন্যান্য উপায়ে জল সরানোর চেষ্টা করলেও, তা পুরোপুরি নামানো সম্ভব হয় না।
ছাদে দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে একদিকে যেমন ছাদ চুঁইয়ে ঘরের সিলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মশার প্রজননের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
ছাদে জল জমার প্রধান কারণ সাধারণত ড্রেনেজ পাইপে ব্লকেজ বা ছাদের ঢালের ত্রুটি। যদি আপনিও এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে নিচের ৫টি সহজ উপায় আপনার কাজে আসতে পারে।
১) অনেক সময় পাইপের মুখ পরিষ্কার থাকলেও ভেতরে শ্যাওলা, কাদা বা ধুলো জমে জল যাওয়ার পথ আটকে যায়। সেক্ষেত্রে ভালো মানের ড্রেন ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ফুটন্ত গরম জলের সঙ্গে সামান্য কস্টিক সোডা মিশিয়ে পাইপে ঢাললেও ভেতরের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হতে পারে।
২) যদি প্লাস্টিক, শুকনো পাতা বা অন্য কোনো আবর্জনা পাইপের গভীরে আটকে যায়, তাহলে সাধারণ লাঠি দিয়ে তা বের করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে একটি ড্রেন স্নেক কিনে ব্যবহার করুন। এতে পাইপের ভেতরে আটকে থাকা ময়লা সহজেই বেরিয়ে আসে।
৩) বারবার একই সমস্যা এড়াতে পাইপের মুখে একটি ডোম গ্রেট বসিয়ে দিন। এতে পাতা বা আবর্জনা জমলেও জল বের হওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
৪) যদি ছাদের ঢাল ঠিক না থাকায় জল পাইপ পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে, তাহলে লম্বা প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে সাইফন পদ্ধতিতে অথবা ওয়াটার ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে জমে থাকা জল সরিয়ে ফেলুন। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি খুবই কার্যকর।
৫) যদি প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে ছাদের ঢাল বা প্লাস্টারিংয়ে ত্রুটি রয়েছে। বর্ষা শেষ হলে দক্ষ রাজমিস্ত্রি দিয়ে ছাদের স্লোপ ঠিক করিয়ে নিন। পাশাপাশি ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফিং কোটিং করিয়ে নিলে ভবিষ্যতে জল জমলেও চুঁইয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।
সামান্য কিছু সতর্কতা ও সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ করলেই ছাদে জল জমার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এতে যেমন বাড়ি সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যাবে।
