বাংলা সিনেমার উন্নতির স্বার্থে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতা নেওয়াকে কোনওভাবেই অপরাধ বলে মনে করেন না অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ আর চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থকে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সরকারের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেই হয়।
প্রসেনজিৎ বলেন, সিনেমা, নাটক বা শিল্প— সব ক্ষেত্রেই সৃজনশীল স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা হলে অভিনয় ও সিনেমা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে শক্তিশালী করতেই তাঁদের সহযোগিতা চাওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাহায্য প্রয়োজন, এটা তো কোনও অপরাধ নয়।”
শুধু শিল্প নয়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেতা। প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা, পুরনো দিনের গান শুনে জিম করা, বই ও চিত্রনাট্য পড়ার অভ্যাস এবং প্রতিদিন সিনেমা দেখে ঘুমোতে যাওয়ার কথা জানান তিনি। নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজও নিয়মিত দেখেন শেখার জন্য। বিশেষভাবে ঋত্বিক চক্রবর্তী ও সোহিনীর অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের অভিনয়ের ভাষা তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী প্রসেনজিৎ। তাঁর বিশ্বাস, গত এক দশকে বাংলায় বহু মানসম্মত ছবি তৈরি হয়েছে এবং মূলধারার বাংলা সিনেমাও আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তাঁর কাছে ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থই সর্বাগ্রে, আর সেই লক্ষ্যেই সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
