সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ছবির শুটিং সেটে এক সিনেকর্মীর মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে শুটিং ফ্লোরে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই ঘটনাকে ঘিরে বলিউডে দ্রুত তদন্তের দাবি, ক্ষতিপূরণ এবং পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আলোচনা শুরু হলেও, টলিউডে প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তিন মাস পরেও তদন্তের ধীরগতিকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিল্পী।
অভিনেতা কৌশিক সেনের মতে, দুর্ঘটনার পর সত্য গোপন না করে দ্রুত তথ্য সামনে আনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তই সবচেয়ে জরুরি। তাঁর অভিযোগ, রাহুলের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই স্বচ্ছতার অভাব ছিল, যা তদন্তকে জটিল করেছে।
অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী জানান, শুটিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের সময় অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকে না। রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে আর কোনও ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। তাঁর মতে, অভিনেতাদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নেন টেকনিশিয়ানরাই।
অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য বলেন, মুম্বইয়ের শুটিং সংস্কৃতি অনেক বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও পেশাদার। তবে রাহুলের মৃত্যুর পর টলিউডেও একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যদিও তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি।
অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়ও শিল্পীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, বাজেট বা সময়ের চাপে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা উচিত নয়। শিল্পীদেরও প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য করতে অস্বীকার করার সাহস দেখাতে হবে। সব মিলিয়ে ভন্সালীর সেটের দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন টলিউডের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
