তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে আজকাল ঘরে ঘরে এসি বা এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার আকাশছোঁয়া। অফিস, বাড়ি কিংবা গাড়ি—দিনের চব্বিশ ঘণ্টাই আমরা অনেকেই কাটিয়ে দিচ্ছি এসির কৃত্রিম ঠাণ্ডা বাতাসে। সাময়িকভাবে এই পরিবেশ পরম আরামদায়ক মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে এই অভ্যাসের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক নীরব ঘাতক। অজান্তেই যা আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার ফলে মানবদেহে একাধিক জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা বাসা বাঁধছে। এর মধ্যে প্রধান কিছু ঝুঁকি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কমছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
সারাদিন এসির কৃত্রিম তাপমাত্রায় থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। দীর্ঘ সময় এই পরিবেশে কাটালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে।
২. শ্বাসকষ্ট ও মারাত্মক অ্যালার্জির ঝুঁকি
এসির ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক বাতাস আমাদের নাক ও গলার ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লি শুকিয়ে ফেলে। এর ফলে নাক বন্ধ হওয়া, গলা ব্যথা, অনবরত কাশি এবং খুসখুসে ভাব দেখা দেয়। পাশাপশি, এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে সেখানে ক্ষতিকারক জীবাণু ও ছত্রাক বংশবৃদ্ধি করে, যা হাঁপানি (Asthma) বা অ্যালার্জি রোগীদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
৩. রক্ত সঞ্চালনে বাধা, তীব্র মাইগ্রেন ও ক্লান্তি
অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশ শরীরের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনকে ধীর ও প্রভাবিত করে। ফলে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার পর প্রচণ্ড অলসতা, ক্লান্তি এবং শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় যখন কেউ এসি ঘর থেকে হঠাৎ বাইরের স্বাভাবিক বা গরম তাপমাত্রায় বের হন। হুট করে তাপমাত্রার এই বিশাল পরিবর্তনের ধাক্কা শরীর নিতে পারে না, যার ফলে তীব্র মাথা যন্ত্রণা বা মাইগ্রেনের সমস্যা শুরু হয়।
৪. ‘ড্রাই আই’ বা চোখের নানাবিধ সমস্যা
এসি ঘরের শুষ্ক আবহাওয়া চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। এর ফলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া (Dry Eyes), চোখ লাল হওয়া, চুলকানি বা চোখ ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই সমস্যা থেকে বাঁচতে এসিতে থাকার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা উচিত এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শে আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. হাড় ও পেশির স্থায়ী ক্ষতি
চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া সরাসরি গায়ে লাগলে তা আমাদের হাড়ের জয়েন্ট এবং পেশির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাতের ব্যথা বা পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: গরমের দিনে এসি একেবারে বর্জন করা সম্ভব না হলেও এর ব্যবহারে লাগাম টানা জরুরি। ঘরের তাপমাত্রা সবসময় ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখা ভালো। এছাড়া এসি ঘরের বদ্ধ বাতাস দূর করতে দিনে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য জানালা-কপাট খুলে রাখা এবং এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করা আবশ্যক।
