তোলাবাজি ও কোটি কোটি টাকা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। বেশ কয়েকদিন ধরে পলাতক থাকার পর, বুধবার ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।
পালানোর চেষ্টা ও গ্রেফতারি:
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, আনন্দপুর থানায় সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি সপরিবারে নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করলে তিনি ওড়িশায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। ওড়িশার রাস্তায় পুলিশকে দেখে তিনি গাড়ি ফেলে রেখে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁর গাড়িচালক সুজিত চৌধুরীকে পুলিশ সেখানে আটকে ফেলে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, বুধবার পুরী থেকেই তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। এই নিয়ে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর পদে থাকা ১১ জন পুলিশি তদন্তের মুখোমুখি হলেন।
কী কী অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে?
সুশান্ত ঘোষ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে:
কোটি টাকার তোলাবাজি: রুবি মোড় থেকে বহুতল আরবানা পর্যন্ত এলাকার ফুটপাথের হকারদের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা তোলাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। হকার্স কমিটির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনন্দপুর থানায় ডায়েরি করা হয়েছিল।
ভুয়ো লাইসেন্স ও দোকান দেওয়ার নামে প্রতারণা: অভিযোগ, পুরসভার নামে ‘ভুয়ো’ লাইসেন্স তৈরি করে ফুটপাথের ওপর একের পর এক দোকান বিক্রি করেছেন সুশান্ত। আনন্দপুর এলাকায় ফুটপাথের ওপর ৭ ফুটের দোকান পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে জোরপূর্বক একটি ৪ ফুটের দোকান নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দোকান দেওয়ার নাম করে সাড়ে ৩ লক্ষ থেকে শুরু করে ৫ বা ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আনন্দপুর থানা থেকে এই মামলার তদন্তভার লালবাজারের অ্যান্টি ফ্রড সেকশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃত সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুজিত ওরফে বাচ্চনকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে।
