রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক— এমন জল্পনাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের আবহে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। সেই তালিকায় ছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তাঁর পাশাপাশি ছিলেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।
সূত্রের খবর, রাজ্যসভা সদস্যপদ ছাড়ার প্রক্রিয়া নিয়েই নাকি দিল্লি গিয়েছেন কোয়েল। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সোমবার সকাল থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নীরবই রয়েছেন।
কোয়েলের রাজনীতিতে আসা নিয়েও প্রথম থেকেই ছিল বিস্ময়। ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশের মতে, রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহ তেমন ছিল না। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁর হয়ে অন্য কেউ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই পুরনো জল্পনাই আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে।
তৃণমূলের তরফে কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পিছনে রাজনৈতিক কৌশলও ছিল বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে তাঁর পঞ্জাবি পরিবারে বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে ভবানীপুরের পঞ্জাবি ভোটারদের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ভোটের ফলাফলে সেই অঙ্ক সফল হয়নি।
আরও একটি দাবি শোনা যায় দলের অন্দরে— কোয়েলের স্বামী রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব থাকতে পারে। তবে এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠরা। তাঁদের বক্তব্য, কোয়েল বরাবরই সৎ পথে চলেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনও আপস করেন না।
অভিনেত্রীর রাজনৈতিক যাত্রার সময় তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিক-ও বলেছিলেন, “কোয়েল বুঝদার মেয়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।” সেই মন্তব্য এখন আবার নতুন করে আলোচনায়।
উল্লেখ্য, কোয়েলের রাজ্যসভা মনোনয়নের আগে তাঁর বাড়িতে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর দিল্লিতে শপথ নিয়ে সাংসদ হিসেবে দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ভাঙনের আবহে কোয়েলের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসে নিজের সম্মান বজায় রাখতেই চাইছেন।
এখন দেখার, জল্পনা সত্যি করে তিনি সত্যিই কি রাজ্যসভা ছাড়েন, নাকি নীরবতা ভেঙে অন্য কোনও বার্তা দেন।
