এআই-নির্ভর অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জুড়ে চ্যাটজিপিটির স্মার্ট বাজেট ড্যাশবোর্ড

টেক লাইফস্টাইল

এআই-নির্ভর অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জুড়ে চ্যাটজিপিটির স্মার্ট বাজেট ড্যাশবোর্ড

মাসের শুরুতে বেতন হাতে এলেই অকারণ খরচের প্রবণতা অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের চেনা সমস্যা। আর মাসের শেষে বাজেটের হাল সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠে। এবার সেই সমস্যার সমাধানে নতুন প্রযুক্তির হাতছানি। আধুনিক প্রযুক্তিগুলিকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করে তুলতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। এতদিন পর্যন্ত মানুষ মূলত সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা খরচ কমানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির (ChatGPT) কাছ থেকে নানা পরামর্শ নিতেন। কিন্তু এবার আর শুধু পরামর্শে সীমাবদ্ধ থাকছে না এই প্রযুক্তি (AI)। ব্যবহারকারীর আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের হিসেব তৈরি করবে এআই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই তাদের কিছু ‘প্রো’ গ্রাহকদের জন্য নতুন এই পরিষেবা চালু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল, চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) সরাসরি ব্যবহারকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে। প্রায় ১২ হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই পরিষেবার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। প্লেড প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সংযোগ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে ইনটুইটের মতো আর্থিক পরিষেবাও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত হয়ে গেলে ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির (ChatGPT) মধ্যেই একটি আধুনিক ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন। সেখানে রিয়েল টাইমে নজরে আসবে মাসিক খরচ, বিনিয়োগের অবস্থা, সঞ্চয়ের পরিমাণ, ঋণের কিস্তি, আসন্ন বিল এবং সাবস্ক্রিপশনের তথ্য। কোন কোন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় সাবস্ক্রিপশন রয়েছে, তাও মনে করিয়ে দেবে এই প্রযুক্তি।

এই পুরো পরিষেবাটি পরিচালিত হবে ওপেনএআই (OpenAI)-এর উন্নত ‘GPT-5.5 Thinking’ মডেলের মাধ্যমে। ফলে ব্যবহারকারীর আয়ের ধরণ, খরচের অভ্যাস এবং আর্থিক লক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আরও নির্ভুল ও ব্যক্তিগত পরামর্শ দিতে সক্ষম হবে এআই। এমনকি ট্যাক্স পরিকল্পনা, ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের কৌশল সম্পর্কেও নির্দেশনা মিলতে পারে। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সংস্থার দাবি, ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণই থাকবে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে যেকোনও সময় অ্যাকাউন্ট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে এবং তথ্য মুছে ফেলার সুযোগও থাকবে। অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই সমস্ত তথ্য ডিলিট করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। বর্তমানে এই পরিষেবা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইফোন ও ওয়েব ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ। তবে ভবিষ্যতে ভারতেও এই প্রযুক্তি চালু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনাকে সহজ ও স্মার্ট করে তুলতে এআই-নির্ভর এই নতুন উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।