তারাতলা বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী! ‘প্ল্যানেই গলদ’, ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতায় নির্মাণকাজে ব্রেক

কলকাতা সর্বশেষ খবর

তারাতলার (Taratala Godown Collapse) ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে গোটা কলকাতাজুড়ে নির্মাণ প্রকল্পের উপর কড়া নজরদারির ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে দুর্ঘটনার নেপথ্যে ছিল (Construction Plan Failure) বা নির্মাণ পরিকল্পনার গুরুতর ত্রুটি। সেই কারণেই আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা (KMC) এলাকার সমস্ত বাণিজ্যিক এবং সন্দেহজনক নির্মাণ প্রকল্পে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ সালে এই নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিক রিপোর্টে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। আগের সরকারের আমলে বহু ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাই এবার প্রতিটি (Commercial Construction Site) বা বাণিজ্যিক নির্মাণস্থলের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
এই উদ্দেশ্যে (Joint Audit Team) গঠন করা হয়েছে। পিডব্লিউডি, সিভিল ডিফেন্স, দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং কেএমডিএ-র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি এই দল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত রিপোর্ট জমা দেবে। যেসব প্রকল্প নিরাপত্তা ও নকশাগত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হবে, সেগুলিকে ১ আগস্ট থেকে পুনরায় কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে।

এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ এখনও জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ২১ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন জীবিত। তবে এখনও ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের কাছে জল ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী এবং (National Disaster Response Force) (NDRF)-এর ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশাল লোহার কাঠামো সরাতে আধুনিক ড্রিলিং প্রযুক্তির প্রয়োজন হওয়ায় সেনা ও এনডিআরএফকে কাজে নামানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর ধরে চলা নির্মাণকাজের সময় থেকেই কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দুর্ঘটনার দিন সকালে মূল লোহার ফ্রেম অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল। সেই কাঠামো পরীক্ষা করতে গিয়ে একাধিক শ্রমিক ছাদ ও নীচের অংশে অবস্থান করছিলেন। ঠিক তখনই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বিশাল লোহার ছাদ।
সরকার জানিয়েছে, এই ঘটনায় কার গাফিলতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখে কঠোর (Legal Action) নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কলকাতার নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগও শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *