বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের সবুজায়নে এক বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী. কলকাতার নলবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বার্তা দেন। কেন্দ্রের ‘এক পেড় মা কে নাম’ (একটি গাছ মায়ের নামে) অভিযানের আদলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যার মেয়াদ থাকবে ৫ জুন ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত।এই সময়সীমার মধ্যে রাজ্যজুড়ে মোট ১.১ কোটি চারগাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।পরিবেশ দিবসের দিনই রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ৬ লক্ষ ফলের গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী আবাসন বা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশ আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।তিনি সাফ জানান, নিয়ম অনুযায়ী নতুন আবাসনের মোট জায়গার এক-তৃতীয়াংশ বা এক-তৃতীয়াংশ জমিতে বৃক্ষরোপণ করা বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে এই আইন ঠিকঠাক মানা হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। কড়া সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগিয়ে ছবি তুললেই হবে না, বরং সেই চারা গাছগুলোকে যাতে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে মহীরুহে পরিণত করা যায়, সেই দায়িত্বও নিতে হবে।স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমেও বৃক্ষরোপণের উপযোগিতা ও সচেতনতার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রতিটি স্তরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বলয় তৈরিতে প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, জেলা বা কেএমসি (KMC) স্তরে প্রায় ৫,০০০টি, ব্লক স্তরে ১০০টি, পৌরসভা স্তরে ২০০টি, পৌরণিগম বা বোরো স্তরে ৩০০টি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে ১,০০০টি করে চারাগছ রোপণ করা হবে।
তিনি শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চালু হওয়া ‘স্বচ্ছতা অ্যাপ’-এর কার্যকারিতা নিয়েও কথা বলেন ।এই অ্যাপের মাধ্যমে নোংরা আবর্জনার খবর দিলে দুই ঘণ্টার মধ্যে তা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা আপাতত ১০টি শহরে চালু হলেও আগামীতে সব পৌরসভায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।এর পাশাপাশি রাজ্যের বিখ্যাত ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র যেমন— কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ, কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল এবং দীঘার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।কপিল মুনির আশ্রমকেও নতুন রূপ দেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের এই সবুজায়নের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিজের মাকে উৎসর্গ করে এদিন নলবনে চারা রোপণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। কর্মসূচির পর নলবনের ভেড়িতে মাছের চারাও ছাড়েন তিনি। এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা।
