Taratala Collapse : তারাতলায় মৃত্যুমিছিল দীর্ঘতর! গ্রেফতার গুদাম মালিক, ধ্বংসস্তূপে ক্যামেরা নামিয়ে সেনার তল্লাশি

কলকাতা ভাইরাল

কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কিছু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় এনডিআরএফ (NDRF)-এর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এদিকে ঘটনায় গুদাম মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদামে ধসের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেও জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত ৩০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে সেনাবাহিনী। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকফোকরে বিশেষ সার্চ ক্যামেরা পাঠিয়ে ভিতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ল্যাপটপে সেই লাইভ ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা। যে জায়গাগুলিতে জীবিত কারও উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকারী বাহিনীর দাবি, ধসে পড়া কাঠামোর ভিতর থেকে মাঝেমধ্যেই শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সেই কারণেই এখনও আশা ছাড়তে নারাজ উদ্ধারকর্মীরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান।

বুধবার দুপুরে ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ গুদামের বিশাল লোহার কাঠামো আচমকা ভেঙে পড়ে। সেই সময় সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম, চাঙ্গড় এবং নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের। ধসে পড়া ভারী লোহার কাঠামো সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যাস কাটার, হাইড্রোলিক যন্ত্র এবং ভারী ক্রেন।

এদিকে, এই ঘটনায় নির্মাণে গাফিলতি ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যেই গুদাম মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে সুপারভাইজার এবং শ্রমিক সরবরাহকারীদেরও গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, নির্মাণের নকশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কাজের মান নিয়ে একাধিক অনিয়মের সূত্র মিলতে পারে। সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই এগোচ্ছে তদন্ত। উল্লেখ্য, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ১৯ বছরের পরিযায়ী শ্রমিকও। তাঁর দেহ ইতিমধ্যেই পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারাতলার এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘিরে এখনও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে শ্রমিক পরিবারগুলির। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ জীবিত রয়েছেন কি না, সেই আশাতেই নিরন্তর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *