প্রথমবার দক্ষিণী ছবিতে অভিনয় করে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন অভিনেতা রজতাভ দত্ত। বাংলা সিনেমায় খলনায়ক হিসেবে নিজের শক্তিশালী উপস্থিতি বহুবার প্রমাণ করেছেন তিনি। এবার তেলুগু ছবির জগতে পা রেখে এক নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন অভিনেতা।
‘পেড্ডি’ ছবিতে ক্যামিও চরিত্রে দেখা গিয়েছে রজতাভকে। স্বল্প সময়ের উপস্থিতি হলেও তিনি জানিয়েছেন, যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তাতে তিনি সত্যিই আপ্লুত। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার রাম চরণ।
রজতাভ জানান, তাঁকে কোনও অডিশন দিতে হয়নি। একটি ‘জুম কল’-এর মাধ্যমে সহ-পরিচালক এবং পরিচালক বুচি বাবু সানা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় কিছু অভিব্যক্তি দেখে তাঁকে সরাসরি নির্বাচিত করা হয়।
তেলুগু ভাষা শেখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অভিনেতা জানান, তাঁকে তিনভাবে চিত্রনাট্য দেওয়া হয়েছিল—ইংরেজি স্ক্রিপ্ট, রোমান হরফে লেখা তেলুগু সংলাপ এবং রেকর্ড করা ডায়লগ। সহ-পরিচালক সংলাপগুলি রেকর্ড করে পাঠাতেন, যা শুনে শুনেই প্রস্তুতি নিতেন তিনি। এই পদ্ধতি তাঁকে ভাষা আয়ত্ত করতে অনেক সাহায্য করেছে।
ডাবিংয়ের ক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন রজতাভ। তিনি হিন্দি এবং তেলুগু—দুই ভাষাতেই ডাবিং করেছেন। যদিও তিনি বলেন, তাঁর কাছ থেকে নিখুঁত তেলুগু বলার আশা কেউ করেননি, তবুও তাঁর প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেছেন সকলে।
সহ-অভিনেতা রাম চরণের সম্পর্কে বলতে গিয়ে রজতাভ বলেন, তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও আন্তরিক মানুষ। নিজে এগিয়ে এসে পরিচয় দেওয়া থেকে শুরু করে সহ-অভিনেতার কাজের প্রশংসা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সৌজন্য মুগ্ধ করেছে রজতাভকে।
বর্তমানে টলিপাড়ার নানা বিতর্ক থেকে দূরে থেকে নিজের কাজেই মন দিতে চান অভিনেতা। ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ এবং ‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’-এর পর এখন তিনি ব্যস্ত ‘দেশু৭’ এবং ‘নলিনীকান্ত’ ছবির শুটিং নিয়ে।
নতুন ভাষা, নতুন ইন্ডাস্ট্রি—সব মিলিয়ে রজতাভ দত্তর এই সফর তাঁর কেরিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন বলেই মনে করছেন অনেকেই।
