রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটল নতুন রাজ্য সরকার। বিশেষ করে নারী সুরক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের মোকাবিলা করতে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নারী সুরক্ষায় বিশেষ ‘দুর্গা স্কোয়াড’ ও থানায় হেল্প ডেস্ক
বিগত দিনে রাজ্যে নারী নিরাপত্তার দাবিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ও উদ্বেগ দেখা গিয়েছিল। সেই আবেগকে মান্যতা দিয়েই এবার প্রতিটি মহকুমায় গঠন করা হচ্ছে বিশেষ ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’।
পাশাপাশি, নারীরা যাতে কোনো দ্বিধা বা সংকোচ ছাড়াই আইনি সাহায্য পেতে পারেন, তার জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০০টি থানায় চালু হচ্ছে ‘মহিলা হেল্প ডেস্ক’। এই ডেস্কগুলির দায়িত্বে থাকবেন বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা পুলিশ আধিকারিকরা।
আজকের ডিজিটাল যুগে ঘরে ঘরে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন লেনদেন বাড়ার সাথে সাথে আর্থিক জালিয়াতি ও ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো সাইবার অপরাধের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই রোগ শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের।
তাই এই সমস্যার গোড়া থেকে মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাথে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। সাইবার পুলিশ স্টেশন ও থানাগুলির হেল্প ডেস্ক তদারকি করার জন্য একজন উচ্চপদস্থ সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক (এডিজি বা আইজি পদমর্যাদার) নিয়োগ করা হচ্ছে। এই বিভাগকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করা হবে।
বর্তমানে রাজ্যে জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি সাহায্য পৌঁছাতে যেখানে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়, সেই ব্যবধান এবার কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যান্য উন্নত রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও যাতে ফোন করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য জরুরি পরিষেবা ‘১১২’-এর গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। আগামী বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
