সিনেমার পর্দা নয়, এ যেন বাস্তবের এক চরম ট্র্যাজেডি! টলিপাড়ার রাজদণ্ড কি তবে সত্যিই হাতবদল হয়ে গেল? যে স্বরূপ-অরূপের একচ্ছত্র রাজত্বের চোখরাঙানিতে এতদিন থরথর করে কাঁপত স্টুডিও পাড়া, আজ সেই দিন অতীত! ক্ষমতার যে ‘ব্যান্ড কালচার’ আর সিন্ডিকেটের জাঁতাকলে পড়ে এতদিন বহু শিল্পীর দম আটকে আসছিল, আজ পাশার দান ওল্টাতেই তারা ‘রাজার আসনে’। আর এই পটপরিবর্তন ঘটতেই টলিউডের অন্দরে শুরু হয়েছে ভোলবদলের এক নজিরবিহীন মহোৎসব। কেউ রাতারাতি সুর নরম করছেন, কেউ বা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া। কিন্তু সমস্ত নাটকীয়তাকে এক ঝটকায় ছাপিয়ে গেলেন টলিপাড়ার ‘পারফেক্ট জেন্টলম্যান’ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। প্রকাশ্য বৈঠকে প্রায় কাঁদো কাঁদো মুখে পরম যা উগরে দিলেন, তা শুনে টলিপাড়ার দেওয়ালেও যেন তীব্র কম্পন ধরেছে!
“দাঁতে দাঁত চেপে আমি ক্ষমা চেয়েছি কেবল ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে…” পরমব্রতর এই একটি মাত্র সংলাপে এখন তোলপাড় গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।
ফ্ল্যাশব্যাক: ক্ষমতার বুটের নিচে যখন পিষ্ট হয়েছিল শিল্প!
চলুন ফেরা যাক অতীতে। একসময় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে যখন অরাজকতা আর দাদাগিরি চরমে, দিনের পর দিন গায়ের জোরে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল— তখন শিরদাঁড়া সোজা রেখে একাই আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন পরমব্রত। কিন্তু ‘শাসক’ কি আর অবাধ্যতা পছন্দ করে? ব্যস! ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ধেয়ে এল তীব্র রোষ। পরমব্রত প্রকাশ্যেই ফাঁস করলেন এক বিস্ফোরক সত্য। পরম-পিয়ার বিয়ের পর পরিস্থিতি এমন বিষাক্ত ও রুদ্ধশ্বাস করে তোলা হয়েছিল যে, টলিউডে স্রেফ টিকে থাকতে, রুটি-রুজির ছাড়পত্র পেতে শেষমেষ ক্ষমতাশালীদের পায়ে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
অতীতের ক্ষত হাতড়ে পরমব্রত আফসোসের সুরে বলেন, “২০১১ সালের আগে আমরা কী ভীষণ আনন্দে কাজ করতাম! সেই মুক্ত বাতাস আমাদের ফিরিয়ে আনতেই হবে। এখানে কেউ ‘জয় বাংলা’ বলবে, কেউ ‘জয় শ্রীরাম’, কেউ ‘লাল সেলাম’ তো কেউ ‘বন্দে মাতরম’। কিন্তু লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের মাঝে যেন কোনো রাজনৈতিক রং ঢুকে না পড়ে!”
সুবিধাবাদী নাকি ভুক্তভোগী? নেটপাড়ায় ট্রোলিংয়ের সুনামি!
পরমব্রতর এই ‘কান্না’ কিন্তু নেটপাড়া সহজে গিলছে না! সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আছড়ে পড়েছে তীব্র সমালোচনা আর চাবুকের মতো সব প্রশ্ন। নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে মনে করিয়ে দিচ্ছেন— এই তো সেদিনও যিনি শাসকদলের হয়ে গলা ফাটিয়েছিলেন, ‘বাংলা বিরোধীদের স্থান নেই’ স্লোগান তুলে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সরাসরি তৃণমূলের ভোটপ্রচারে কোমর বেঁধে নেমেছিলেন, আজ হাওয়া বদলাতেই তিনি ‘বলির পাঁঠা’ সাজছেন কোন দুঃখে? যখন তাঁর নিজের প্রিয় বন্ধুরা ইন্ডাস্ট্রিতে নিষিদ্ধ হচ্ছিলেন, তখন কেন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন পরম? সমালোচকদের তীক্ষ্ণ বাণ— প্রাক্তন মন্ত্রীদের দাক্ষিণ্য আর ফেডারেশনের জুতোয় পা মিলিয়েই তো এতদিন রাজার হালে কাজ গুছিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেতা, তবে আজ এই ভোলবদল কেন?
