জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণে যাচ্ছেন না— তিনি রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই। পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব বলেন, “আমার ভালবাসা সারা জীবন দিদির জন্য থাকবে। যত দিন তিনি আছেন, আমি তাঁর সঙ্গেই আছি।” সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং পরদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই দেবের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন তিনি। দেব বলেন, “আগামী দিনে কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে দিদি থাকলে আমি তাঁর পাশেই।”
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেব জানান, তিনি দিল্লি বা নবান্ন— যেখানেই যান না কেন, তা শুধুমাত্র ঘাটালের মানুষের স্বার্থেই। “আমাকে যাঁরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাঁদের উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য,” বলেন তিনি। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে বহু প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেব জানান, দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার সমাধানে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এই প্রকল্প দিদির স্বপ্ন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে সেটি সফল হবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। উনি আমাকে সেই আশ্বাস দিয়েছেন।” রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা দিতেও ভোলেননি দেব। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী এই রাজ্যের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী— এই সত্যিটা আমাদের সকলের মেনে নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে ইতিবাচক সুরে বলেন, “এটা শুধু কোনও এক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। উন্নয়নই আসল লক্ষ্য। আমরা সেই কাজই করতে চাই।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তালিকায় দেবের নাম উঠে আসে। এমনকি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে হওয়া বৈঠকেও তাঁর উপস্থিতির খবর সামনে আসে। সেই আবহেই দেবের এই স্পষ্ট বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
