দৈনন্দিন জীবনে ঈশ্বরের আরাধনা করা আমাদের মনের শান্তি ও পজিটিভ এনার্জি ফিরিয়ে আনে। ধর্মপ্রাণ মানুষেরা বিশ্বাস করেন, নিয়মিত পুজো-অর্চনা করলে মন পবিত্র হয় এবং নানাবিধ বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে হিন্দুশাস্ত্রে পুজো করার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা অজান্তেই আমরা অনেক সময় ভুল করে ফেলি। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ভুল নিয়মে পুজো করলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, পুজো দাঁড়িয়ে করা শুভ নাকি বসে?
দাঁড়িয়ে পুজো করা কি ঠিক?
আজকালকার ফ্ল্যাট বাড়ির ছোট জায়গায় অনেকেই দেওয়ালে ঠাকুর বসিয়ে দাঁড়িয়ে পুজো সারেন। তবে বাস্তু ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁড়িয়ে পুজো করার চেয়ে আসন পেতে বসে পুজো করা বেশি ফলদায়ক। দাঁড়িয়ে পুজো করলে দীর্ঘক্ষণ মন স্থির রাখা কঠিন হয় এবং অনেক সময় দেব-দেবীকে ফুল বা প্রসাদ নিবেদন করতে অসুবিধা হতে পারে। তাই পুজোয় গভীর মনোযোগ ও ভক্তি বজায় রাখার জন্য বসে আরাধনা করাই সবচেয়ে উত্তম।
বাস্তুশাস্ত্র এবং সনাতন ধর্মে সবসময় বসে পুজো করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে কিছু দারুণ কারণ রয়েছে:
পুজো করার সময় কখনোই খালি মেঝে বা মাটিতে সরাসরি বসতে নেই। শাস্ত্র অনুযায়ী, মাটিতে সরাসরি বসলে পুজো থেকে উৎপন্ন পজিটিভ এনার্জি মাটিতে বিলীন হয়ে যায়। তাই পুজোয় বসার সময় কুশ বা কম্বলের তৈরি শুদ্ধ আসন ব্যবহার করা উচিত, যা আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং আত্মিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বাস্তুশাস্ত্র ও সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, পুজো করার সময় সঠিক দিক নির্বাচন করা এবং পুজোর সামগ্রীগুলো নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণ অর্থাৎ ঈশান কোণে দেব-দেবীর মূর্তি বা ছবি রাখা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়, যেখানে দেবতাদের মুখ সর্বদা পশ্চিম বা উত্তর দিকে থাকবে। পুজো করার সময় আপনার নিজের বসার আসনটি এমনভাবে পাতবেন যাতে আপনার মুখ সর্বদা পূর্ব অথবা উত্তর দিকে থাকে। এই সঠিক আসনে বসার পর পুজোর উপাদানগুলোও নিয়ম মেনে দু’পাশে সাজিয়ে নিতে হবে। ধূপকাঠি, প্রদীপ এবং ঘণ্টা সর্বদা আপনার ডান দিকে রাখবেন, কারণ এগুলোকে শক্তির প্রতীক ধরা হয়। অন্যদিকে পুজোর শুদ্ধ ফুল, নৈবেদ্যর ফল, জলের পাত্র বা ঘট সবসময় আপনার বাঁ দিকে,শঙ্খ সর্বদা উত্তর-পূর্ব (ঈশান) বা পূর্ব দিকে গুছিয়ে রেখে পুজো সম্পন্ন করতে হয়।
প্রতিদিন নিয়ম মেনে, শুদ্ধ মনে এবং ভক্তি সহকারে ঈশ্বরের আরাধনা করলে আরাধ্য দেবতার কৃপা ও আশীর্বাদ খুব সহজেই লাভ করা যায়।
