ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে (Indian Political History) এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে ১০ জুনকে ঘিরে। রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা চলছে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দেশের দীর্ঘতম সময় ধরে টানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু (Jawaharlal Nehru) ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত টানা ৪,৩৯৮ দিন প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন, যা এতদিন পর্যন্ত একটানা সর্বোচ্চ সময়ের রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়। এই সময়কালকে ভারতের রাষ্ট্রগঠন (Nation Building) পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়।
২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি টানা ক্ষমতায় থাকেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের ১০ জুন তাঁর কার্যকালের সময়কাল নেহেরুর রেকর্ডকে অতিক্রম করতে পারে, যা হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত (Historic Moment)।নেহেরুর শাসনকাল ছিল সদ্য স্বাধীন দেশের ভিত্তি গঠনের যুগ, যেখানে রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরি করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে বর্তমান ভারতের (Modern India) শাসনব্যবস্থা অনেক বেশি জটিল—জনসংখ্যা, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে।
মোদী সরকারের সময়কালে উন্নয়নমূলক প্রকল্প (Development Projects), ডিজিটাল ইন্ডিয়া (Digital India), স্বচ্ছ ভারত অভিযান (Swachh Bharat Mission), টিকাকরণ কর্মসূচি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিভিন্ন উদ্যোগে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে (Public Participation) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে শুধু সুবিধাভোগী নয় বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই শাসনধারা ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনেছে বলে দাবি করা হয়।
তবে বিরোধী ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি শাসন শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং রাজনৈতিক সমর্থন, নির্বাচনী জনমত (Electoral Mandate) এবং সময়ের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে। এখন গোটা দেশের নজর ১০ জুনের দিকে। সত্যিই কি নেহেরুর ৬২ বছরের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখবেন মোদী, নাকি এটি শুধু রাজনৈতিক আলোচনার আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে—তা সময়ই বলবে।
