রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই শিল্প বিনিয়োগের গতি আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘আদানি হেল্থ সিটি’ প্রকল্পের পর এবার আরও ২,১০০ কোটি টাকার দুটি নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যে ৬০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ হোসিয়ারি শিল্প প্রকল্প এবং প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার একটি আধুনিক ইস্পাত কারখানার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্পের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত হোসিয়ারি শিল্পটি শ্রমনির্ভর হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ১,৫০০ কোটি টাকার ইস্পাত কারখানা পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই দুটি প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে নতুন শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার নতুন শিল্প নীতি তৈরির কাজও শুরু করেছে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বে একটি ক্যাবিনেট সাব-কমিটি ইতিমধ্যেই নয়া শিল্প নীতির খসড়া তৈরির কাজ করছে। সূত্রের খবর, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নতুন সরকারের প্রথম শিল্প সম্মেলন বা বিজনেস মিট অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেই মঞ্চ থেকেই নতুন শিল্প নীতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিঙ্গুর ও টাটা গোষ্ঠীর প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সিঙ্গুরের বহু কৃষক শিল্পের জন্য জমি দিতে আগ্রহী হলেও টাটা গোষ্ঠীকে সেখানেই জমি দেওয়া হবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চায়, টাটা গোষ্ঠী রাজ্যে একটি অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ইউনিট এবং একটি ডেটা সেন্টার গড়ে তুলুক। এই বিষয়ে আগামী দিনে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে টাটা গোষ্ঠী অসমে প্রায় ২৭,১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্ট (OSAT) প্ল্যান্ট তৈরি করছে। সেই প্রকল্পে প্রায় ২৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির শিল্প আনার জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদানি হেল্থ সিটি, নতুন হোসিয়ারি শিল্প, ইস্পাত কারখানা এবং সম্ভাব্য সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প—সব মিলিয়ে নতুন সরকারের শিল্পায়নের রোডম্যাপ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
