Shuvendu Adhikari : দুর্নীতির শিকড়ে কোপ! আবাস থেকে রেশন, এবার অফিসারদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ সরকারের

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সর্বশেষ খবর

‘জিরো টলারেন্স’ বা রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Shuvendu Adhikari) প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই তার এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক মহলে বড়সড় আলোড়ন ফেলেছে। নবান্ন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত, খাদ্য এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরে অতীতে হওয়া একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি খতিয়ে দেখতে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Shuvendu Adhikari) । শুধু দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তি বা ঠিকাদার নন, যেসব সরকারি আধিকারিক নিয়ম ভেঙে ফাইল অনুমোদন করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প ‘বাংলার আবাস যোজনা’। অভিযোগ, প্রকৃত গরিব ও যোগ্য পরিবার বঞ্চিত হলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বহু অযোগ্য ব্যক্তি সরকারি সুবিধা পেয়েছেন। তদন্তে এমন বহু অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন (CM Shuvendu Adhikari) , বেআইনিভাবে ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেমন FIR করা হবে, তেমনই যেসব আধিকারিক যাচাই না করেই অনুমোদন দিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে খাদ্য দফতরের রেশন দুর্নীতিতেও বড়সড় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত ব্যক্তি বা ভুয়ো রেশন কার্ডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যসামগ্রী তোলা হয়েছে এবং তা কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত দফতরের ইন্সপেক্টর ও আধিকারিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পেও নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার ও সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগে কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। অভিযোগ, বহু জায়গায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হলেও কিছু ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিক সাইট পরিদর্শন না করেই বিল পাস করেছেন। সেই সমস্ত আধিকারিক, ঠিকাদার এবং সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে প্রশাসনের অন্দরে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, সাধারণ বিভাগীয় তদন্ত বা সাসপেনশনের বদলে এবার সরাসরি আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছে সরকার। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকারি অর্থ অপচয় ও সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।