পুণের প্রভাবশালী রিয়েল-এস্টেট পরিবারের ২৫ বছরের যুবক কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু প্রথমে দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। লোহগড় দুর্গে ছবি তুলতে গিয়ে খাদে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন বাগদত্তা সিয়া গোয়াল। কিন্তু মাত্র পাঁচ দিনের তদন্তেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশের দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত খুন। আর সেই খুনের নেপথ্যে রয়েছেন কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে কেতন ও সিয়ার বাগদান হলেও সিয়ার সঙ্গে চেতনের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। পরিবার নির্ধারিত বিয়ে করতে না চাওয়ায় কেতনকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন দু’জনে। ১৮ জুন, সিয়ার জন্মদিনের আগের দিন, কেতনকে নিয়ে লোহগড় দুর্গে যান সিয়া। পুলিশ সূত্রে খবর, চেতন আগেই সেখানে পৌঁছে অপেক্ষা করছিল। দুর্গের এক নির্জন অংশে পৌঁছনোর পর দু’জনে মিলে কেতনকে গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর সিয়া কেতনের পরিবারকে ফোন করে জানান, ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে খাদে পড়ে গেছেন কেতন। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তাও পোস্ট করেন তিনি। তবে তদন্তকারীদের মতে, এগুলি ছিল সন্দেহ এড়ানোর কৌশল। মামলার তদন্তে আরও উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। রাজস্থানে বিলাসবহুল ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের প্রস্তুতি চলছিল জোরকদমে। বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটেরও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেতনের পাসপোর্ট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় সেই সফর বাতিল হয়ে যায়। পুলিশের সন্দেহ, সেই ঘটনাতেও সিয়ার ভূমিকা থাকতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এটি কি প্রথম হত্যাচেষ্টা ছিল? তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার আগে আরও দু’বার কেতন ও সিয়া লোহগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। ফলে আগেও কি একই পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের হাতে আসা প্রাথমিক প্রমাণ ও জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন গোটা ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচনে তদন্ত চালাচ্ছে পুণে পুলিশ।
