মাত্র দু’দিনের ছুটি পেলেই পাহাড়প্রেমীদের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে দার্জিলিং (Darjeeling travel)। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে শৈলশহরের চেনা ছবি। একসময় যে দার্জিলিং ছিল মেঘ, নীরবতা আর পাহাড়ি শান্তির শহর, এখন সেখানে পর্যটকদের ভিড় প্রায় সারা বছরই চোখে পড়ে। ম্যাল রোডে হাঁটতে গেলে ভিড় এড়িয়ে চলাই কঠিন, নতুন হোটেল আর শপিং কমপ্লেক্সের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো পাহাড়ি আবহ। তাই এখন অনেকেই দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি এমন কিছু জায়গার খোঁজ করছেন, যেখানে মিলবে প্রকৃতির শান্ত স্পর্শ আর নিরিবিলি পরিবেশ (offbeat destination)।
এই তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে লেবংয়ের নাম। দার্জিলিং শহর থেকে খুব অল্প দূরত্বে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি উপত্যকা যেন ক্লান্ত মনকে শান্তি দেয়। চারপাশে সবুজ পাহাড়, চা-বাগান আর মেঘের আনাগোনা মিলিয়ে লেবংয়ের পরিবেশ একেবারেই আলাদা। এখানে এখনও বাণিজ্যিক পর্যটনের অতিরিক্ত চাপ পড়েনি। বড় হোটেলের বদলে রয়েছে ছোট ছোট সুন্দর হোমস্টে, যেখানে পাহাড়ি আতিথেয়তার উষ্ণতা আলাদা অনুভূতি দেয়। সকালে ঘুম ভাঙে পাখির ডাক আর কুয়াশা ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য দেখে। কাছেই রয়েছে বাতাসিয়া লুপ, ঘুম মঠ ও হ্যাপি ভ্যালি চা-বাগানের মতো দর্শনীয় স্থান।
অন্যদিকে প্রকৃতির আরও গভীরে হারিয়ে যেতে চাইলে তাবাকোশি হতে পারে আদর্শ ঠিকানা। মিরিকের কাছাকাছি অবস্থিত এই গ্রামটি এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পাহাড়ি নদী রংভাংয়ের ধারে ছোট্ট এই গ্রাম যেন ছবির মতো সুন্দর। চারদিকে পাইন, বার্চ আর চা-বাগানের সবুজে ঘেরা তাবাকোশি শহরের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এক জগৎ তৈরি করেছে। বসন্ত বা গরমকালেও এখানকার আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকে। নির্জনতা, পাখির ডাক আর নদীর শব্দ মিলিয়ে এখানে সময় যেন ধীরে বয়ে যায়।
দার্জিলিংয়ের কাছেই আরও একটি শান্ত ঠিকানা ঋষিহাট। ছোট্ট এই পাহাড়ি গ্রামে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি হোমস্টে আর চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ চা-বাগান। কাঠের ছোট ছোট বাড়ি আর দূরে তুষারঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। শহরের কোলাহল এড়িয়ে পাহাড়কে নতুনভাবে অনুভব করতে চাইলে লেবং, তাবাকোশি ও ঋষিহাট হতে পারে আপনার পরবর্তী পাহাড় সফরের সেরা গন্তব্য।
