বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজছে চুল? অবহেলা করলেই বাড়বে হেয়ার ফল, জেনে নিন সুরক্ষার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল সর্বশেষ খবর স্বাস্থ্য

আষাঢ়-শ্রাবণের মরশুমে আকাশের মুখ ভার। এই রোদ তো এই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। আর এই খামখেয়ালী আবহাওয়ায় রাস্তায় বেরোলেই বিপত্তি! ছাতা বা রেইনকোট থাকলেও অনেক সময়ই বৃষ্টির ছাঁটে চুল ভিজে যায়। আর তাতেই বাড়ে চুলের দফারফা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এমনিতেই চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। তার ওপর যদি বৃষ্টির জল চুলে বসে যায়, তবে চুল পড়ার বেগ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
তবে সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই মরশুমেও আপনার চুল থাকবে সিল্কি ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। বর্ষায় চুলের যত্নে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি, দেখে নিন একনজরে:
১. বৃষ্টির জল দ্রুত ধুয়ে ফেলুন
চুলে বৃষ্টির জল লাগলে তা শুকানোর জন্য ফেলে রাখবেন না। যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার জল দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে হালকা গরম জল এবং শ্যাম্পু ব্যবহার করে স্ক্যাল্প পরিষ্কার করে নিন, কারণ বৃষ্টির জলে থাকা দূষিত পদার্থ চুলের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
২. কন্ডিশনার ব্যবহারে জোর দিন
শ্যাম্পু করার পর চুলে ভালো মানের কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না, অন্যথায় চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে। কন্ডিশনার ব্যবহারের পর জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে চুল মুছে নিন। এই মরশুমে হেয়ার ড্রায়ার যত কম ব্যবহার করা যায়, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ততই ভালো।
৩. স্ক্যাল্প শুকনো রাখা জরুরি
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে চুলে আর্দ্রতা জমে থাকে এবং তা সহজে শুকাতে চায় না। তাই খেয়াল রাখুন যেন চুলের গোড়া কোনোভাবেই দীর্ঘক্ষণ ভেজা না থাকে। গোড়া ভেজা থাকলে চুল দুর্বল হয়ে ঝরে পড়ে।
৪. ঘন ঘন শ্যাম্পু নয়
চুল পরিষ্কার রাখা ভালো, তবে এই সময়ে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বারের বেশি শ্যাম্পু না করাই শ্রেয়। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে চুল তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায় এবং বৃষ্টির জল লেগে থাকা অবস্থায় চুলে জট পড়ে ক্ষতি হতে পারে।
৫. খুশকি ও চুলকানির সমস্যায় দ্রুত ব্যবস্থা
বর্ষার মরশুমে মাথায় খুশকি হওয়া বা স্ক্যাল্পে চুলকানির সমস্যা খুব সাধারণ বিষয়। এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করুন, অন্যথায় সংক্রমণ বেড়ে চুল পড়া বৃদ্ধি পাবে।

বর্ষার এই দিনগুলোতে চুলের একটু বাড়তি যত্ন নিলেই মিলবে চুল পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই। একটু বাড়তি সর্তকতা আর সঠিক পুষ্টির জোগান দিলেই এই স্যাঁতসেঁতে আবহহাওয়াতেও চুলের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *