আগামীকাল, ৬ জুলাই, ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হবে। দিনটিকে ঘিরে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়েও তাঁকে স্মরণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি ও প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব, সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী, জেলা সভাপতি এবং হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। শুধু কলকাতাই নয়, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর-সহ প্রায় প্রতিটি জেলাতেই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ এবং জনসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বিজেপির যুব মোর্চা, মহিলা মোর্চা, কৃষক মোর্চা, তফসিলি মোর্চা-সহ বিভিন্ন শাখা সংগঠনও পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করবে। বহু জায়গায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং স্মারক বক্তৃতারও আয়োজন করা হয়েছে।
চলতি বছরে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী সরকারি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হতে চলেছে। প্রশাসনিক স্তরেও দিনটিকে ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের আমলে এই কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
কে ছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?
১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিচারপতি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দেওয়া শ্যামাপ্রসাদ মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হন।
স্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরে মতপার্থক্যের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এই জনসংঘই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা করে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে গ্রেফতার হওয়ার পর রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক আলোচনার অন্যতম বিষয়।
বিজেপির মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন জাতীয় ঐক্য, এক দেশ-এক সংবিধান এবং অখণ্ড ভারতের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা। তাঁর শিক্ষা, প্রশাসনিক দক্ষতা, জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা এবং রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখেই প্রতি বছর তাঁর জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়।
এবারও রাজ্যজুড়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে গেরুয়া শিবির। ফলে আগামীকালের কর্মসূচির দিকে নজর থাকবে শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সাধারণ মানুষেরও।
