আইনি চক্রব্যূহে অভিষেক! ১৩টি মামলার পাহাড় ডিঙিয়ে এবার কালীঘাটের অন্দরে পুলিশ

রাজনীতি রাজ্য সর্বশেষ খবর

বাইরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রমণ তো ছিলই, এবার তদন্তের খাঁড়া সরাসরি নেমে এল ঘরের অন্দরে। শনিবার ভোররাতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে শালবনী থানার পুলিশের নজিরবিহীন হানা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান কেবল একটি সাধারণ তল্লাশি নয়, বরং এটি অভিষেকের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি চাপের এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
ঘরের দোরগোড়ায় তদন্তের আঁচ বিপাকে অভিষেক:
শালবনির একটি জমি কেলেঙ্কারি ও আর্থিক তছরুপের মামলায় অভিষেকের ব্যক্তিগত আপ্ত-সহায়ক (PA) সুমিত রায়ের খোঁজে রাত আড়াইটে নাগাদ হানা দেয় পুলিশ। দরজার তালা ভেঙে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার এই ম্যারাথন তল্লাশি সরাসরি অভিষেকের ব্যক্তিগত বৃত্তে আঘাত হেনেছে। তদন্তের এই আগ্রাসী ধারা যখন সরাসরি তাঁর শোওয়ার ঘর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, তখন সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং নিজের রাজনৈতিক জমি ধরে রাখা তরুণ এই নেতার কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে যে কেবল এই একটি মামলার মুখোমুখি, তা কিন্তু নয়। তিনি কার্যত এক চতুর্মুখী আইনি জটিলতার সম্মুখীন।
শুধু এই জমি দুর্নীতি নয়, এর পাশাপাশি স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলা এবং নিজের সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নসহ প্রায় ১৩টি জটিল মামলার আইনি মোকাবিলা একযোগে করতে হচ্ছে তাঁকে।
আগামীকালই সিআইডি দপ্তরে তাঁর ফের হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগের দিন রাতে এই ধরণের হাই-ভোল্টেজ পুলিশি অ্যাকশন প্রমাণ করছে যে, আইনি দিক থেকে চারপাশ দিয়ে ক্রমশ চেপে ধরা হচ্ছে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন। মুখে “সব কিছু ক্যামেরায় রেকর্ড করা আছে” কিংবা “তদন্তকারীরা কী পেয়েছে ওরাই ভালো বলতে পারবে” বলে দৃঢ়তা দেখানোর চেষ্টা করলেও, তাঁর চোখে-মুখে বাড়তে থাকা চাপের স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করেছেন উপস্থিত রাজনৈতিক মহল।
আপাতত তল্লাশি শেষ হলেও সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে একের পর এক মামলার বোঝা এবং খোদ নিজের বাড়িতে তালা ভেঙে পুলিশের এই প্রবেশ—সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে এই মুহূর্তে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন ও চাপসঙ্কুল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *