Suvendu Adhikari : শুভেন্দুর ‘জনতার দরবারে’ চাকরিপ্রার্থীদের ঢল, স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে সরব বঞ্চিতরা

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

সোমবার সকালে সল্টলেকের বিজেপি (BJP), জনতার দরবার (Janatar Darbar), চাকরিপ্রার্থী (Job Seekers), শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Teacher Recruitment Scam) এবং শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই কয়েকটি বিষয় ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয় বিশেষ চাঞ্চল্য। রাজ্য বিজেপির দফতরে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকেই ভিড় জমায় বিভিন্ন জেলার মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে চাকরি হারানো ও দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের উপস্থিতি। এদিন মোট নয়টি চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজেদের দাবি ও ক্ষোভ তুলে ধরেন। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার পর রাজ্যের হাজার হাজার যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবিতে সরব হন তারা।

২০১৬ সালের প্যানেলের বঞ্চিত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিরা জানান, যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত চাকরিতে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই নতুন সরকারের কাছ থেকে তারা দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে আগের সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থাও উঠে আসে এদিনের আলোচনায়। কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে এই ক্ষেত্রে কার্যত কোনও নিয়োগ হয়নি। দুর্নীতি ও প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে বহু যোগ্য প্রার্থী কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি ওঠে।

জনতার দরবারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। কোচবিহার, ভবানীপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যার সমাধানের আশায় সল্টলেকে পৌঁছন। অনুষ্ঠানে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিনি সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শুনবেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন। শুধু কলকাতাতেই নয়, ভবিষ্যতে জেলার বিভিন্ন অংশেও এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। চাকরিপ্রার্থীদের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবিক অর্থেই তাদের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *