বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ অনেকেরই থাকে না। তাই এখন ঘরে খাবার তৈরির বদলে অনলাইন অ্যাপ থেকেই অর্ডার করে খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আর সেই খাবার বেশিরভাগ সময়ই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো অবস্থায় বাড়িতে পৌঁছায় (Aluminium Foil Health Risk)। শুধু বাইরে থেকে আনা খাবার নয়, ঘরোয়া রান্নাতেও এখন অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। খাবার গরম রাখা, ফ্রিজে সংরক্ষণ করা কিংবা ওভেনে বেক করার সময় অনেকেই নিয়মিত এই ফয়েল ব্যবহার করছেন। তবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সঙ্গে খাবারের সরাসরি সংস্পর্শ হলে ধীরে ধীরে ফয়েলের কিছু অংশ খাবারের মধ্যে মিশে যেতে পারে (Aluminium Foil Side Effects)। বিশেষ করে টক, ঝাল, নোনতা বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। লেবু, টমেটো, ভিনিগার বা টক দই জাতীয় খাবার ফয়েলে দীর্ঘক্ষণ রাখলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে অ্যালুমিনিয়াম দ্রুত খাবারে মিশে যায়। আর সেই খাবার যদি পরে মাইক্রোওয়েভে গরম করা হয় বা ওভেনে বেক করা হয়, তাহলে ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম শরীরে প্রবেশ করলে হজমের গোলমাল, গ্যাস-অ্যাসিডিটি, পেটব্যথা কিংবা বমিভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে (Health Tips)। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং স্নায়বিক জটিলতার আশঙ্কাও বাড়তে পারে। যদিও এই সমস্যাগুলি একদিনে তৈরি হয় না, তবে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস থেকেই ধীরে ধীরে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা খাবার সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। কাচ, স্টিল বা সেরামিকের পাত্র খাবার রাখার জন্য অনেক বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয় (Kitchen Safety)। যদি বেক বা গ্রিল করার সময় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে খাবার ও ফয়েলের মাঝে বাটার পেপার বা বেকিং পেপার ব্যবহার করা উচিত। একই ফয়েল বারবার ব্যবহার করাও একেবারেই ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড দেখে অকারণে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের অতিরিক্ত ব্যবহার না করে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ রান্নাঘরের ছোট ভুলই ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
