বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর-এর বিরুদ্ধে তৎপর হল পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে সমন নিয়ে পৌঁছয় রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ। আগামী ৩ ও ৪ জুলাই তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যে সভাগুলিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত, সেই সভার দুই আয়োজককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শক্তিপুর থানায় দায়ের হওয়া FIR অনুযায়ী, ২৭ জুন একটি ফেসবুক ভিডিও পুলিশের নজরে আসে। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীর পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কে অপমানজনক, উস্কানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। তদন্তে জানা যায়, গত ৮ মে শক্তিপুর থানার গড়দুয়ারা ঘাট এলাকায় বিজয় সমাবেশে তিনি ওই বক্তব্য রেখেছিলেন। পুলিশের দাবি, তাঁর বক্তব্য জনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া FIR-এ অভিযোগ করা হয়েছে, ২৬ জুন কাশীপুর হাটতলার এক জনসভায় হুমায়ুন কবীর এমন বক্তব্য দেন, যা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দল এবং সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও শত্রুতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ওই সভায় মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, “মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামব, সেদিন আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না।” পরদিন আরেক সভা থেকে পুলিশের বিরুদ্ধেও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক দুটি FIR দায়ের হয়।
সোমবার বিধানসভায় গুন্ডা দমন বিলের আলোচনায় এই প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আইনের শাসন কাকে বলে, এবার টের পাবেন।” পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, আইন ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরই মঙ্গলবার দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ। শুধু সমন পাঠানোই নয়, কাশীপুরের বিতর্কিত সভার আয়োজকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে AJUP-র রেজিনগর অঞ্চল সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং কাশীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য আনিসুর রহমান-কে।রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পর প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর, হুমায়ুন কবীর নির্ধারিত দিনে থানায় হাজিরা দেন কি না এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।
