২১ জুলাইয়ের মহাসমাবেশকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের প্রবীণ নেতা তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘চোর ধরার’ নীতিকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে দাবি করেন, “সব চোর ঋতব্রতর দলে ঢুকে গেছে, আগে ওদের ধরুন।”
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের শাসনকালে হুগলির একাধিক প্রাক্তন বিধায়ক ও নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী-র নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ঘনিষ্ঠদের অনেকেই বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।
এরপর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কল্যাণ বলেন, “আপনি বলেছেন যারা চুরি করেছে, মাল কামিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করবেন। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন আছে। কিন্তু ঋতব্রতর সঙ্গে যারা গেছে, সব চোর তো ওখানেই আছে। আগে ওদের ধরুন।”
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তৃণমূল কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত। বিধানসভা ও লোকসভা— দুই জায়গাতেই আলাদা ব্লক তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর কথায়, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বি ব্লক’ আর দিল্লিতে এনডিএ-র ‘বি ব্লক’— সবটাই নিজেদের বাঁচানোর রাজনীতি।”
এদিন দলের প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন নেতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাশাপাশি চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকর, চাঁপদানীর প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন এবং সোনা পাপ্পুর নামও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
জেলা সভাপতি অসিত মজুমদার দাবি করেন, ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, দলের কর্মীরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁর নেতৃত্বেই তৃণমূল এগিয়ে যাবে।
