গরমকাল মানেই ফলের রাজা আমের মরশুম। কাঁচা হোক কিংবা পাকা, আমের গন্ধে ও স্বাদে আট থেকে আশি—সবাই ব্যাকুল। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, আম যতই সুস্বাদু আর পুষ্টিকর হোক না কেন, তা খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম না জানলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক আম খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং কোন কোন ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি।
খালি পেটে আম খাওয়া কেন বিপজ্জনক?
অনেকেই সকালের জলখাবারে বা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে আম খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুক্টোজ) থাকে। খালি পেটে আম খেলে এই শর্করা সরাসরি এবং খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়, যার ফলে আচমকা ‘সুগার স্পাইক’ বা শর্করার মাত্রা একলাফে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। খালি পেটে আম খেলে শরীরের পাচক রসের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এর ফলে গ্যাস, অম্বল বা পেটের নানা সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
দুপুরে ভারী খাবারের ঠিক পরেই কি আম খাওয়া উচিত?
আমাদের মধ্যে অনেকেরই অভ্যাস থাকে দুপুরে পেট পুরে ভাত খাওয়ার পর পাতে পাকা আম রাখা। পুষ্টিবিদ দের মতে, এই অভ্যাসটিও শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। ভাত বা ভারী খাবারের সাথে বা ঠিক পরপরই আম খেলে শরীরে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেট প্রবেশ করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা তরতরিয়ে বাড়তে পারে এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তাই ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত বেশ কিছুক্ষণ পর আম খাওয়া উচিত।
তাহলে আম খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?
পুষ্টিবিদদের মতে, আম খাওয়ার সবচেয়ে সেরা সময় হলো দুটি ভারী খাবারের মধ্যবর্তী সময়। সকালের জলখাবার খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর অর্থাৎ মাঝ-সকালে অথবা বিকালের দিকে হালকা খাবার হিসেবে আম খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। আম অবশ্যই খাবেন, তবে পরিমাণের দিকে নজর রেখে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস বা ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, তারা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে ও সঠিক সময়ে আম উপভোগ করুন। সুস্থ থাকুন, আমের মরশুমের আনন্দ নিন নিয়ম মেনে!
