ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হতে যাচ্ছে। ফুটবল আর বিনোদনের এক নজিরবিহীন সংমিশ্রণ ঘটাতে ফিফা এবার বড়সড় চমক দিয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে আয়োজিত হবে জমকালো ‘হাফটাইম শো’, যা সাধারণত আমেরিকার এনএফএল বা সুপার বোলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগামী ১৯শে জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য মেগা ফাইনালের এই বিশেষ শো-তে মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন ল্যাটিন পপ কুইন শাকিরা, বিশ্বখ্যাত পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা এবং কোরিয়ান মিউজিক সেনসেশন বিটিএস। কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন এক অভিনব ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই নক্ষত্রখচিত লাইনআপটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
এই আয়োজনে পারফর্মারদের ব্যক্তিগত চমকও থাকছে প্রচুর। ল্যাটিন তারকা শাকিরা ইতিমধ্যে এই বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ প্রকাশ করেছেন, যা দর্শকদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্যদিকে পপ কুইন ম্যাডোনা জুলাইয়েই তাঁর নতুন মিউজিক অ্যালবাম নিয়ে আসছেন, যা এই পারফরম্যান্সে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত বিটিএস। দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে এবং সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সম্পন্ন করার পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যান্ড হিসেবে তারা কোনো বিশ্বমঞ্চে ফিরছে। ফুটবল আর পপ সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে।
তবে এই বিশাল আয়োজনের চাকচিক্যের আড়ালে কিছু বিতর্ক ও উদ্বেগের সুরও শোনা যাচ্ছে। আগামী ১১ই জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হলেও ভেন্যুগুলোতে যাতায়াতের আকাশছোঁয়া খরচ ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়োজক শহরগুলোতে হোটেল রুম বুকিং প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটা কম। দূর-দূরান্তের ভেন্যু এবং মাত্রাতিরিক্ত ভ্রমণ ব্যয়ের কারণে ভক্তদের উন্মাদনায় কিছুটা ভাটা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফিফার লক্ষ্য আকাশছোঁয়া। গত কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল রেকর্ড ৫০ কোটির বেশি দর্শক উপভোগ করেছিলেন, আর এবার বিনোদনের নতুন সব অনুষঙ্গ যোগ করে সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যেতে চায় ফিফা। যেহেতু এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে এই আসর আয়োজন করছে, তাই বিশ্বজুড়ে ফুটবলের আবেদন বাড়াতে কোনো কমতি রাখছেন না আয়োজকরা। মাঠের টানটান উত্তেজনা আর হাফটাইমে শাকিরার নাচের সুরের মূর্ছনা—সব মিলিয়ে ১৯শে জুলাইয়ের রাতটি হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক মহোৎসব।
